বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট,তেহরান, ২৪ মে: ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারকে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তি চুক্তি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে ইরান।
শনিবার (২৩ মে) ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো না গেলেও আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে। তবে অতীতের অভিজ্ঞতার কারণে মার্কিন অবস্থান পরিবর্তনের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বাঘেই জানান, বর্তমান আলোচনার প্রধান লক্ষ্য যুদ্ধ বন্ধ করা। আলোচ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালি ঘিরে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বন্ধ, ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করা এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমানো।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরামর্শের পর একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) চূড়ান্ত করার কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
খসড়া নথি অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতির সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা হবে এবং ইরানকে অবাধে তেল রপ্তানির সুযোগ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রণালিতে পেতে রাখা মাইন অপসারণে ইরানের সম্মতির বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানি বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা ও অবরোধ শিথিল করার বিষয়ে আলোচনা করবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত চুক্তিতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও আলোচনা অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এর আওতায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সীমিত করা এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতার বিষয় আলোচনায় রয়েছে।
তবে মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই এ বিষয়ে সতর্ক অবস্থান প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান পর্যায়ে তেহরান পারমাণবিক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছে না। তার ভাষ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে দেশটির বিরুদ্ধে একাধিক আগ্রাসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে সম্মত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইরানের বক্তব্যের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে।
বাঘেই বলেন, ইরানের জন্য এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। তিনি জানান, এ লক্ষ্যে চলমান আলোচনায় লেবানন-সংক্রান্ত বিষয়ও গুরুত্ব পাচ্ছে।