নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক সংগঠনকে সময়োপযোগী ও কার্যকর রাখতে পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই—এই বার্তাই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র যাত্রাবাড়ী মধ্য থানার উদ্যোগে আয়োজিত “বার্ষিক পরিকল্পনা ওরিয়েন্টেশন-২০২৬” কর্মসূচিতে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) অনুষ্ঠিত এ গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে ওয়ার্ড পর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সংগঠনের তৃণমূল শক্তিকে আরও গতিশীল করার ইঙ্গিত দেয়। কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ও মহানগরী নায়েবে আমীর আব্দুর সবুর ফকির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতায় দায়িত্বশীলদের দক্ষতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলার ওপর জোর দেন।
তার বক্তব্যে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় শুধু সাংগঠনিক উপস্থিতিই নয়, বরং সুসংগঠিত দাওয়াতি কার্যক্রম, জনসম্পৃক্ততা এবং সমাজসেবামূলক উদ্যোগকে সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তৃণমূলভিত্তিক শক্তি বাড়ানো ছাড়া একটি রাজনৈতিক আদর্শকে বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ কে আজাদ খান সংগঠন পরিচালনায় পরিকল্পিত কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শক্তিশালী সংগঠন গড়ে তুলতে হলে প্রত্যেক পর্যায়ের নেতাকর্মীকে নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি ইসলামী মূল্যবোধভিত্তিক সমাজ গঠনে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
ওরিয়েন্টেশনটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং ভবিষ্যৎ কর্মপথ নির্ধারণের একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে। অংশগ্রহণকারী দায়িত্বশীলদের মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনাকে আরও বাস্তবসম্মত ও কার্যকর করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সব মিলিয়ে, যাত্রাবাড়ীর এই আয়োজন প্রমাণ করে—রাজনৈতিক সংগঠনকে শক্তিশালী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস এবং তৃণমূলভিত্তিক কার্যক্রমই হতে পারে সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি। কর্মসূচির সমাপ্তি হয় দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে।