স্টাফ রিপোর্টার, দাউদকান্দি, কুমিল্লা : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আবারও এক নারীর প্রাণ ঝরে গেল পারিবারিক নির্যাতন ও কথিত পরকীয়ার জেরে। তিন বছরের সন্তানকে রেখে ২৪ বছর বয়সী গৃহবধূ কুরসিয়া আক্তারকে হত্যার পর ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্বামী সাব্বির মিয়া ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) গভীর রাতে উপজেলার গোয়ালমারী ইউনিয়নের দক্ষিণ নছরুদ্দি গ্রামে ঘটে এই মর্মান্তিক ঘটনা। শনিবার সকালে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক, যা সন্দেহকে আরও ঘনীভূত করছে।
নিহতের পরিবার জানায়, চার বছর আগে পারিবারিকভাবে সাব্বির মিয়ার সঙ্গে কুরসিয়ার বিয়ে হয়। সুখের আশায় মেয়ের পরিবার জমি বিক্রি করে অর্থ সহায়তা দিলেও সেই সংসারে শান্তি ফেরেনি। বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে নির্যাতন, আর্থিক চাপ ও অমানবিক আচরণ।
অভিযোগ উঠেছে, সাব্বির মিয়ার বড় ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে তার অবৈধ সম্পর্ক ছিল, যা নিয়ে প্রায়ই দাম্পত্য কলহ চলত। ঘটনার রাতেও এই বিষয়কে কেন্দ্র করে তীব্র ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপরই রহস্যজনকভাবে কুরসিয়ার ‘ঝুলন্ত লাশ’ উদ্ধারের খবর দেওয়া হয়।
নিহতের বড় ভাই কবির হোসেন ক্ষোভে বলেন,
“আমার বোন আত্মহত্যা করার মানুষ না। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আমরা এর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এই ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। প্রশ্ন উঠছে—কেন বারবার নারীর জীবন এমন নির্মমভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে? কেন প্রতিবারই ‘আত্মহত্যা’ তত্ত্বের আড়ালে লুকিয়ে যায় সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ড?
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি এম আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনা শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়; এটি আমাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। নারীর প্রতি সহিংসতা, পরকীয়া ও পারিবারিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর সামাজিক ও আইনি অবস্থান এখনও প্রশ্নবিদ্ধ। অপরাধীরা বারবার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে—এ যেন বিচারহীনতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করছে।
রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জোর দাবি—এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে, এমন ঘটনা বন্ধ হবে না—বরং আরও বাড়বে।