নিজস্ব প্রতিবেদক : বহুল আলোচিত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার পরিবার। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিজ বাড়িতে রায়-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় আবু সাঈদের মা-বাবা বলেন, এ রায়ে প্রকৃত বিচার হয়নি এবং অনেক বড় অপরাধী এখনো শাস্তির বাইরে রয়ে গেছে।
আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন অভিযোগ করেন, মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের অনেকেই পলাতক এবং প্রভাবশালীদের আড়াল করা হয়েছে। তিনি বলেন, “যারা সরাসরি জড়িত ছিল, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
মা মনোয়ারা বেগমও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমার ছেলে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আরো বেশি আসামির ফাঁসি হলে আমরা কিছুটা স্বস্তি পেতাম। এই রায়ে আমরা খুশি নই।”
রায়ে পুলিশের সাবেক এএসআই আমির হোসেন ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং পাঁচজনকে ১০ বছরসহ মোট ৩০ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ড দেওয়া হয়।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার আরিফুজ্জামান জীবন, তাজহাট থানার সাবেক ওসি রবিউল ইসলাম নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের সাবেক ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় মাধব।
১০ বছর দণ্ডপ্রাপ্তদের তালিকায় আছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ড. মো. হাসিবুর রশীদ বাচ্চু, সাবেক পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বেল্টু এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।
এদিকে শিক্ষার্থীদের মধ্যেও রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সহপাঠীরা বলছেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী বিচার হয়নি এবং সব অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. শওকাত আলী বলেন, এই রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসন আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রংপুরে পুলিশের গুলিতে আবু সাঈদ নিহত হন। এ ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়।