✍️ নিজস্ব প্রতিবেদক | দাউদকান্দি, কুমিল্লা ।
৫ই আগস্ট পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় জনমনে ক্ষোভ, উত্তেজনা এবং গভীর অসন্তোষ বিরাজ করছে। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের একটি অংশ এখনো নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগপন্থী প্রভাববলয়ে থেকে কাজ করছে, যা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জনমতের পরিপন্থী।
বিশেষ করে, একাধিক মামলার আসামি ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা আওয়ামী লীগ নেতা কামরুজ্জামান শাহীনকে পুনর্বহালের উদ্যোগ ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক বিতর্ক। স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, প্রশাসনের ভেতরে একটি প্রভাবশালী চক্র সুপরিকল্পিতভাবে তাকে পুনরায় দায়িত্বে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেয়। যদিও প্রবল জনবিক্ষোভ ও উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত স্থগিত বা বাতিল করা হয়, তবুও প্রশ্ন থেকেই গেছে—কাদের স্বার্থে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল?
এ ঘটনা শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং এটি বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি করেছে। স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এ ধরনের পদক্ষেপ প্রমাণ করে প্রশাসনের একটি অংশ এখনো পুরোনো রাজনৈতিক আনুগত্য থেকে বের হতে পারেনি।
বিএনপি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের দাবি, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে প্রশাসনকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখা এবং ভবিষ্যৎ সরকারব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য দলীয় প্রভাবমুক্ত কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে উন্নয়ন কার্যক্রম, জননিরাপত্তা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিতর্কিত কর্মকর্তাদের দ্রুত অপসারণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয় নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকদের ভাষ্য স্পষ্ট—
“দাউদকান্দির প্রশাসনে কোনোভাবেই ফ্যাসিস্ট শক্তির দোসরদের জায়গা নেই। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ হতে হবে—এটাই এখন জনতার একমাত্র দাবি।”
বর্তমান প্রেক্ষাপটে দাউদকান্দির এই ঘটনাকে বিচ্ছিন্নভাবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক সংস্কার ও রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার ক্ষেত্র হয়ে উঠছে। এখন দেখার বিষয়—উচ্চপর্যায়ের কর্তৃপক্ষ এই বিতর্কের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।