স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশের রিয়েল এস্টেট খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হলেও এর প্রচারণা পদ্ধতিতে এখনো পুরনো ধ্যান-ধারণার প্রভাব স্পষ্ট। প্রযুক্তিনির্ভর এই যুগে ক্রেতারা যেখানে অনলাইনে বিস্তারিত তথ্য, ভিডিও ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী, সেখানে অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো কার্যকর ডিজিটাল মার্কেটিং কৌশল গ্রহণে পিছিয়ে রয়েছে। ফলে মানসম্মত প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা পাচ্ছে না তারা।
রিয়েল এস্টেট মার্কেটিং কনসালটেন্ট ইঞ্জিনিয়ার আকাশ চন্দ্র দাস বলেন, শুধুমাত্র স্থির ছবি বা সাধারণ পোস্টের ওপর নির্ভরতা এখন বড় একটি সীমাবদ্ধতা। একটি প্রকল্প বিক্রির জন্য আকর্ষণীয় ভিডিও, ড্রোন ফুটেজ এবং পূর্ণাঙ্গ ভিজ্যুয়াল স্টোরি অত্যন্ত জরুরি। কারণ একটি ফ্ল্যাট বা জমি শুধু পণ্য নয়, এটি মানুষের স্বপ্ন—যা বাস্তবসম্মতভাবে উপস্থাপন করতে না পারলে ক্রেতার আগ্রহ তৈরি হয় না।
তিনি আরও জানান, অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের সঠিক ব্যবহার করতে ব্যর্থ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন দিলেই সফলতা আসে না; এর জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট টার্গেটিং, ডেটা বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক কনটেন্ট কৌশল। অভিজ্ঞতার অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান বড় বাজেট খরচ করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাচ্ছে না।
ক্লায়েন্ট ব্যবস্থাপনা ও প্রেজেন্টেশনকেও একটি বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আগ্রহী ক্রেতাকে যথাযথভাবে গাইড না করা কিংবা প্রকল্পের সুবিধাগুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে অনেক সম্ভাব্য ক্রেতা হারিয়ে যাচ্ছে।
এছাড়া, দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে ব্র্যান্ডিংয়ের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো শুধুমাত্র প্রকল্প বিক্রিতে সীমাবদ্ধ রয়েছে। শক্তিশালী ব্র্যান্ড ইমেজ গড়ে তুলতে না পারায় তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রিয়েল এস্টেট খাতে টেকসই উন্নয়নের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও আধুনিক মার্কেটিং সমাধান। ডিজিটাল কনটেন্ট, উন্নত ভিজ্যুয়ালাইজেশন, কার্যকর ক্লায়েন্ট কমিউনিকেশন এবং ডেটা-নির্ভর কৌশলের সমন্বয়ই পারে এই খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে।
বর্তমানে কিছু প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এই পরিবর্তনের সাথে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিচ্ছে এবং রিয়েল এস্টেট প্রমোশনকে একটি পূর্ণাঙ্গ ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতায় রূপ দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যারা সময়োপযোগী এই পরিবর্তন গ্রহণ করবে, তারাই ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারবে।