বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ইরানের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর ধারাবাহিক হামলা চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অত্যাধুনিক জেএএসএসএম-ইআর (JASSM-ER) ক্রুজ মিসাইলের বিশাল অংশ ইতোমধ্যেই ব্যবহার করে ফেলেছে বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। ফলে এখন জরুরি মজুদ থেকেও এই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করতে বাধ্য হচ্ছে পেন্টাগন।
সামরিক তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২৩০০টি জেএএসএসএম-ইআর মিসাইল ছিল। তবে সংঘাতের প্রথম চার সপ্তাহেই ১০০০টির বেশি ব্যবহার হয়ে গেছে। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন ঘাঁটিতে মোট অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র প্রায় ৪২৫টি মিসাইল, যা সামরিক বিশ্লেষকদের মতে প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই ইরানের প্রতিরোধ অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক সংঘর্ষে একটি মার্কিন এফ-১৫ই স্ট্রাইক ফাইটার ভূপাতিত হওয়ার পাশাপাশি একটি এ-১০ আক্রমণ বিমান এবং উদ্ধার অভিযানে যাওয়া হেলিকপ্টারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ইরানের হামলায় একাধিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংসের খবর পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, ইরানও পাল্টা হামলা জোরদার করেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে তারা শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও হাজারো শাহেদ ড্রোন ব্যবহার করেছে। এসব হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামূলক ইন্টারসেপ্টর মিসাইলের মজুদও দ্রুত কমে আসছে।
এই পরিস্থিতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই কঠিন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইসঙ্গে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা খার্গ দ্বীপ নিয়ে সামরিক পরিকল্পনার গুঞ্জনও ছড়িয়েছে।
বিশ্বখ্যাত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান Lockheed Martin ও RTX Corporation উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা চালালেও যুদ্ধের তীব্রতার তুলনায় তা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক সক্ষমতার ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করতে পারে এবং বিশ্ব নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলতে পারে।