বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : সামরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে দ্রুত সাফল্য পাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের ময়দানে নয়—বরং কৌশলগত ও অর্থনৈতিক দিক থেকেই পাল্টা চাপ তৈরি করছে ইরান।
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি ইরানের সবচেয়ে বড় শক্তি হিসেবে উঠে এসেছে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবাহিত হয়। ইরান আংশিকভাবে জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করলেই বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে। ফলে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালাতে গিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে ভাবতে হচ্ছে বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রভাব নিয়েও।
যুদ্ধ এখন আর কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে। ইরান সীমিত সামরিক শক্তি ব্যবহার করেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে সক্ষম হচ্ছে—ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কিংবা সামুদ্রিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়েই তারা বিশ্ববাজারে চাপ তৈরি করছে।
শুরুতে দ্রুত বিজয়ের আশা করলেও ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এখন কৌশল বদলাতে বাধ্য হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পূর্ণমাত্রার হামলা চালালে ইরানের পাল্টা আঘাতে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলো বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এছাড়া স্থলযুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনাও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় রাজনৈতিক ঝুঁকি। এতে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের অভ্যন্তরে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
ইরানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান হলো খার্গ দ্বীপ—দেশটির প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এই দ্বীপে আঘাত হানলেও যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম; বরং এতে সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুদ্ধ দীর্ঘ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অর্থনৈতিক চাপও বাড়ছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
সব মিলিয়ে, সরাসরি সামরিক জয়ে পিছিয়ে না থাকলেও যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করে কৌশলগত সুবিধা নেওয়ার পথে এগোচ্ছে ইরান।