নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজনৈতিক অস্থিরতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও চাঁদাবাজির অভিযোগে উত্তপ্ত সময়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে সংগঠন মঞ্চ ২৪। রাজধানীর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়–এর মধুর ক্যান্টিনে রোববার বিকেলে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটি ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেছে।
সংগঠনের আহ্বায়ক ফাহিম ফারুকী দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই তাদের এই কর্মসূচি। তিনি বলেন, গণহত্যার অভিযোগে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত না হলে জনগণের ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষা অপূর্ণ থেকে যাবে। একইসঙ্গে অভিযুক্ত আর এস ফাহিম চৌধুরীর দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া শুরুর দাবি জানান তিনি।
ছয় দফা দাবির মূল সুর
মঞ্চ ২৪-এর ঘোষিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—
সারা দেশে চাঁদাবাজি বন্ধে বিশেষ অভিযান
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ভাঙা ও কার্যকর বাজার তদারকি
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জড়িতদের নিরপেক্ষ তদন্ত
আর এস ফাহিম চৌধুরীর দ্রুত গ্রেপ্তার
সহিংস সংগঠন ও ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা
জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে কটাক্ষকারীদের প্রকাশ্য ক্ষমা
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পেছনে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট চক্র সক্রিয়। রমজানকে সামনে রেখে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনকে আরও চাপে ফেলছে বলে দাবি করেন তারা।
রাজনৈতিক বক্তব্যে ফাহিম ফারুকী বলেন, ‘জুলাই সনদ’ গণভোটে সমর্থন পেলেও সংস্কার প্রক্রিয়ার বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি মনে করেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংস্কার পরিষদের শপথ নিশ্চিত করা না হলে তা জনগণের রায়ের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া, শেখ হাসিনা–এর নামে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন প্রসঙ্গে নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো পুনর্বাসন গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটি নিজেদের আইনসম্মত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক চর্চায় বিশ্বাসী উল্লেখ করে অন্যায়, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে তারেক রহমান–এর নেতৃত্বে দুর্নীতিমুক্ত ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশার কথাও তুলে ধরা হয়।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে মঞ্চ ২৪–এর এই ছয় দফা দাবি কতটা রাজনৈতিক প্রভাব ফেলবে এবং সরকার কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে—তা এখন দেখার বিষয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা ইস্যু সামনে রেখে বিরোধী শক্তির চাপ বাড়তে পারে, যা আসন্ন সংসদ অধিবেশনকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলবে।