নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণের প্রত্যাশা এখন আকাশচুম্বী। সেই প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই নিরন্তর কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সামনে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান—গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠাই হবে তাঁর অগ্রযাত্রার প্রধান লক্ষ্য।
আইনমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রাম, ত্যাগ ও রক্তের ঋণ ভুলে যাওয়ার সুযোগ নেই। বিশেষ করে জুলাই বিপ্লব এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের চেতনা ধারণ করেই এগিয়ে যাবে সরকার। তাঁর ভাষায়, “মানুষের পাহাড় সমান যে প্রত্যাশা—তা পূরণে আমরা নিরন্তর কাজ করে যাব।”
গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি
নির্বাচনী ইশতেহারকে ধারণ করে অগ্রসর হওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের মূল অঙ্গীকার হলো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। একটি দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর নতুন সরকারের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা স্বীকার করেও তিনি আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে জানান—আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কোনো আপস করা হবে না।
মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘আইন তার নিজস্ব গতিতে’
মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, “আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।” একই সঙ্গে অতীতে আইনের অপব্যবহার হয়ে থাকলে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি। এতে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়—বিচার হবে, তবে তা হবে স্বচ্ছ ও ন্যায্য প্রক্রিয়ায়।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে অবস্থান
সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নেওয়া প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলে তিনি জানান, এ বিষয়ে দলের মুখপাত্র ইতোমধ্যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। নতুন করে কিছু বলার প্রয়োজন নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক পালাবদলের এই সময়ে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে একদিকে যেমন দৃঢ় প্রত্যয়ের সুর, অন্যদিকে তেমনি রয়েছে বাস্তবতার স্বীকৃতি। এখন দেখার বিষয়—ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নে কত দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। জনগণের প্রত্যাশা পাহাড়সম—সেই প্রত্যাশা পূরণেই সরকারের প্রকৃত পরীক্ষা।