নিজস্ব প্রতিবেদক : দীর্ঘ রাজনৈতিক পালাবদলের পর নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করল দেশ। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৫ জন মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
নবগঠিত মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন দলের শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ নেতারা। শপথ নেওয়া মন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন—
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহসানুল হক মিলন, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান।
এর মধ্যে মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন—যা প্রশাসনে বিশেষজ্ঞ নির্ভর সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথের অপেক্ষায় ২৪ জন
একইসঙ্গে মন্ত্রিসভায় প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন আরও ২৪ জন। তারা হলেন—
এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসির খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেন, এম এ মুহিত, আহাম্মেদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
রাজনৈতিক বার্তা
দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য, জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বের প্রাধান্য এবং টেকনোক্র্যাট অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বিএনপি সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কর্মমুখী প্রশাসনের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত। নতুন সরকারের সামনে রয়েছে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, প্রশাসনিক সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করার চ্যালেঞ্জ।
শপথ অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মী, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সব মিলিয়ে এটি কেবল একটি শপথ অনুষ্ঠান নয়, বরং ক্ষমতার নতুন অধ্যায়ের আনুষ্ঠানিক সূচনা—যেখানে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটানোই হবে সরকারের প্রধান পরীক্ষা।