নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের রাজনীতিতে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বাংলাদেশ। তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত আনুষ্ঠানিকতায় তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয় পেয়ে সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার অর্জন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সকালেই জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন। এরপর সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেন দলীয় এমপিরা।
শপথ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, কূটনীতিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজনৈতিক তাৎপর্য
দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও অন্তর্বর্তী সময়ের পর গণভোটের মতো এই নির্বাচনে জনগণ যে রায় দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ক্ষমতার ভারসাম্যে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। বিএনপির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা শুধু সরকার গঠনের সুযোগই দেয়নি, বরং নীতিগত ও কাঠামোগত সংস্কারের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত পরিসর তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শপথ কেবল ব্যক্তি তারেক রহমানের উত্থান নয়—এটি একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা। এখন নজর থাকবে মন্ত্রিসভা গঠন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, প্রশাসনিক সংস্কার এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন সরকারের কৌশলের দিকে।
সামনে কী?
বিকেলেই নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের ঘোষণা আসতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনর্গঠন—এসবই হবে নতুন সরকারের প্রথম দিকের চ্যালেঞ্জ।
দেশ এখন তাকিয়ে আছে—নতুন নেতৃত্ব কত দ্রুত এবং কত কার্যকরভাবে জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে পারে। ক্ষমতার পালাবদলের এই মুহূর্তে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও সমন্বিত উন্নয়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।