নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নির্বাচিত এমপিরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান।
তবে এই আনুষ্ঠানিকতার মাঝেই রাজনৈতিক অস্বস্তির ইঙ্গিত মিলেছে। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা শপথ অনুষ্ঠানের মাঝপথে কক্ষ ত্যাগ করেন—যা তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে শপথ নেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নবনির্বাচিত এমপিরা। তবে দলটি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয়, তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ করবে না।
এই অবস্থানের প্রেক্ষিতে জামায়াতের নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের আগেই ঘোষণা করেছিলেন—বিএনপি শপথ না নিলে জামায়াতও নেবে না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জামায়াতের এমপিরা শপথ নেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
একই ধরনের অবস্থান নিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি। দলটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংস্কার প্রশ্নে বিরোধী দলগুলোর মধ্যে কৌশলগত দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কেউ অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভেতর থেকে প্রভাব বিস্তারের পথ বেছে নিচ্ছে, আবার কেউ নীতিগত অবস্থানকে সামনে রেখে বাইরে থাকার কৌশল নিচ্ছে।
ফলে নতুন সংসদের প্রথম দিনেই সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে তৈরি হলো স্পষ্ট বিভাজনরেখা—যা আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।