নিজস্ব প্রতিবেদক : দ্বাদশ-পরবর্তী রাজনৈতিক অধ্যায়ের নতুন বাঁকে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ এক সিদ্ধান্ত নিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংসদীয় দলের নেতা হিসেবে সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও মনোনীত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদীয় দলের সভাকক্ষে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত এমপিরা ঐকমত্যের ভিত্তিতে তারেক রহমানের প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। দলের মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে সকাল পৌনে ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে বিএনপি থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
তবে এদিন বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। শপথ অনুষ্ঠানের আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের জানান, সংবিধান সংস্কার পরিষদ এখনো সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়নি এবং এর সদস্যদের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক বিধানও চূড়ান্ত নয়।
তিনি বলেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হয়, তবে তা আগে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং তৃতীয় তফসিলে শপথের বিধান সংযোজনের মাধ্যমে সংসদে গৃহীত হতে হবে। সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি সেই শপথে অংশ নেবে না।
দলীয় এমপিদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশ ও তার উপস্থিতিতেই এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় একধাপ এগিয়ে গেল। একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে দলটি যে সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যেই অগ্রসর হতে চায়—সেই বার্তাও স্পষ্ট করল।
নতুন সরকার গঠনের প্রাক্কালে এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে, যেখানে নেতৃত্ব, সংস্কার ও সাংবিধানিকতার প্রশ্ন একসূত্রে গাঁথা হয়ে।