নিজস্ব প্রতিবেদক : দায়িত্ব পালনকালে ঘাতক বাসের বেপরোয়া গতির কারণে নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়েছেন বগুড়া জেলার শেরপুর ফায়ার স্টেশনের ফায়ারফাইটার মোঃ আহসান হাবীব। ১৫-০২-২০২৬ খ্রিঃ রাত (১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত) ০২:০৫ ঘটিকার সময় শেরপুর ফায়ার স্টেশনে সেন্ট্রির দায়িত্ব পালনকালে এই নির্মম দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, ১৫-০২-২০২৬ খ্রিঃ তারিখ আনুমানিক রাত (১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত) ০২:০৫ ঘটিকায় শেরপুর ফায়ার স্টেশনে একটি দুর্ঘটনার সংবাদ আসে। সংবাদ গ্রহণ করে ফায়ার ঘণ্টা বাজান আহসান হাবীব। দুর্ঘটনায় রেসপন্স করার জন্য ১টি ইউনিট বের হওয়ার সময় মেইন গেট খুলে টার্ন আউটের গাড়ি বের হওয়ার জন্য তিনি রাস্তায় ১টি ট্রাককে থামান। ট্রাকটি থামার কিছুক্ষণের মধ্যেই বেপরোয়া গতির একটি বাস পিছন দিক থেকে ট্রাককে সজোরে ধাক্কা দেয়। বাসের ধাক্কায় ট্রাকটি স্টেশনের ভিতর ঢুকে যায় এবং সেন্ট্রি মোঃ আহসান হাবীব ট্রাকের নিচে চাপা পড়েন। তাঁকে উদ্ধার করে শেরপুর ফায়ার স্টেশনের অ্যাম্বুলেন্স যোগে বগুড়ার জিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ০২:৩০ ঘটিকায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাস ও ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। ট্রাকের নম্বর-ঢাকা মেট্রো ন-১৯-২১৪৯ এবং বাসের নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-০৭৩০।
কর্তব্য পালনকালে নির্মম মৃত্যুর শিকার হওয়া মোঃ আহসান হাবীব (পিআইএন: ৫০০৯০৬) ১১-৫-২০২৩ থ্রিঃ থেকে ফায়ারফাইটার পদে শেরপুর ফায়ার স্টেশন, বগুড়ায় কর্মরত ছিলেন। তিনি সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন ১৪-১১-২০০৫ খ্রিঃ। তার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার সাঘাটা থানার ধনারুহা গ্রামে। তার বাবার নাম মৃত আবেদুর রহমান সরকার, মায়ের নাম মৃত আনোয়ারা বেগম। ব্যক্তি জীবনে তিনি বিবাহিত। তাঁর স্ত্রীর নাম নুর-নাহার বেগম। আহসান হাবিবের ১ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়ে মারজিয়া আহসান সিনথী (২২) কুষ্টিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত। ছেলে আব্দুর রাহিম আহসান (১৪) ৮ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত।
আহসান হাবীবের এই অকাল মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি মহোদয়। তিনি আহসান হাবীবের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স হতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেছেন। মহাপরিচালক মহোদয়ের সদয় নির্দেশনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে এসেছেন রাজশাহী বিভাগের উপপরিচালক জনাব মোঃ মঞ্জিল হক। মৃতদেহ পোস্ট মর্টেম শেষে বগুড়া ফায়ার স্টেশনে ১ম জানাজায় আহসান হাবিবের সহকর্মীরা তাঁর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান। উপপরিচালক, রাজশাহী বিভাগ-এর নেতৃত্বে আহসান হাবিবের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন। খবর: ফায়ার সার্ভিস মিডিয়া সেল।