এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞতা, মুক্তিযুদ্ধের উত্তরাধিকার এবং প্রশাসনিক দক্ষতার সমন্বয়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তিনি দেশের ক্ষমতার রাজনীতিতে স্থিতিশীল ও পরীক্ষিত নেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
শিক্ষাজীবনে মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচিত এই রাজনীতিক উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমান London-এ। দেশে ফিরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এ শিক্ষকতা শুরু করেন। একাডেমিক জীবন থেকেই রাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় ইস্যুতে সক্রিয় অংশগ্রহণ তাকে রাজনীতিতে আসার ভিত্তি তৈরি করে।
১৯৮০–এর দশকের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ১৯৮৭ সালে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি যোগ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে। পরবর্তীতে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে কৌশলগত নেতৃত্বে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
জাতীয় সংসদে পাঁচবার নির্বাচিত হয়ে তিনি তার শক্ত জনভিত্তির প্রমাণ দিয়েছেন। নির্বাচনী এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম এবং সংসদীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি জাতীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী অবস্থান ধরে রেখেছেন।
মন্ত্রী হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, স্বরাষ্ট্র এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করে তিনি প্রশাসনিক দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর আস্থাভাজন নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে কুমিল্লা অঞ্চলের কুমিল্লা-১ আসনে বড় ব্যবধানে জয় তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা এখনও অটুট থাকার ইঙ্গিত দিয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় অভিজ্ঞ ও প্রশাসনিকভাবে দক্ষ নেতৃত্বের আলোচনায় তার নাম নতুন করে সামনে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় রাজনীতিতে অভিজ্ঞ নেতৃত্বের চাহিদার প্রেক্ষাপটে তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় সাংবিধানিক বা রাষ্ট্রীয় ভূমিকায় আসতে পারেন—এমন আলোচনা এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে জোরালো হচ্ছে।