নিজস্ব প্রতিবেদক : মাথার ওপর ঝুলছিল ফাঁসির দড়ি। দীর্ঘ কারাজীবন, একের পর এক মামলা আর অনিশ্চয়তার অন্ধকার পেরিয়ে অবশেষে জনতার রায়ে সংসদে জায়গা করে নিয়েছেন বিএনপি ও জামায়াতের তিন আলোচিত নেতা।
বিএনপি নেতা লুৎফুজ্জামান বাবর, আবদুস সালাম পিন্টু এবং জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলা মামলায় ২০০৭ সালে গ্রেপ্তার হন। দীর্ঘ ১৮ বছর কারাবন্দি থাকার পর আইনি প্রক্রিয়ায় খালাস পেয়ে মুক্তি পান। নেত্রকোনা এলাকায় ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে এক লাখ ২০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হন তিনি।
একই মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আবদুস সালাম পিন্টুও দীর্ঘ ১৭ বছর কারাভোগের পর মুক্তি পান। টাঙ্গাইলের গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে প্রায় দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন তিনি।
অন্যদিকে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামও কারামুক্তির পর রংপুর-২ (তারাগঞ্জ-বদরগঞ্জ) আসনে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছেন। ২০১২ সাল থেকে কারাবন্দি থাকার পর গত বছর ২৮ মে তিনি মুক্তি পান।
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত থেকে জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য—তিন নেতার এই রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।