নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কেবল প্রতিপক্ষের সমালোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে দেশ পুনর্গঠন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতির কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপির মূল লক্ষ্য এখন একটি কার্যকর রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সুশাসন নিশ্চিত হবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুর পল্লবীর ২ নম্বর ওয়ার্ডের লাল মাঠ ময়দানে আয়োজিত নির্বাচনি পথসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তারেক রহমান এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক সুরক্ষার একটি বিস্তৃত রূপরেখা তুলে ধরেন।
বক্তব্যে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হবে। পাশাপাশি কৃষিখাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে ‘কৃষি কার্ড’ প্রবর্তন এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
ঢাকা-১৬ আসনের স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, এলাকার মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে। একই সঙ্গে বেকারত্ব দূরীকরণে বিদেশে কর্মসংস্থানে আগ্রহীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা চালুর কথাও জানান তিনি।
দেশের দীর্ঘদিনের পানি সংকট ও রাজধানীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে সারাদেশে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। বিশেষ করে ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধার ও পুনঃখননকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও সুশাসন প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই হবে আগামী দিনের বিএনপি সরকারের প্রথম কাজ। দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে রাষ্ট্র পরিচালনার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
বক্তৃতার শেষাংশে আবেগঘন কণ্ঠে তারেক রহমান বলেন, “আমাদের কাছে সবার আগে দেশ। যেকোনো মূল্যে এই দেশকে গড়ে তুলতে হবে। মানুষের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই আমাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।”
এই বক্তব্যের মাধ্যমে বিএনপি কেবল নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিই নয়, বরং রাষ্ট্র পুনর্গঠনের একটি রাজনৈতিক বার্তাও তুলে ধরেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।