বরিশাল প্রতিনিধি ॥
বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তার ভাষা ও আচরণ এখনও পুরোপুরি বিদায় নেয়নি। স্বৈরাচারের ছায়াতেই এখন কিছু গুপ্ত শক্তি নতুন জালেম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যাদের কাছে দেশের মা-বোনদের নিরাপত্তা ও সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল নগরীর বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ চলবে জনগণের রায়ে। আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদের জবাবদিহির সরকার নির্বাচিত করবে। কিন্তু ৫ আগস্টের পরেও দেখা যাচ্ছে, স্বৈরাচার যে ভাষায় জনগণকে অপমান করত, মানুষকে ছোট করত, সেই সংস্কৃতি বন্ধ হয়নি। একটি গুপ্ত পরিচয়ের দল আজ নতুন জালেমের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
তিনি গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে লক্ষ্য করছি—এই গুপ্ত শক্তির নেতারা প্রকাশ্যে নারীদের উদ্দেশে কলঙ্কিত ও অশালীন শব্দ ব্যবহার করছেন। যারা মা-বোনদের সম্মান দিতে জানে না, তাদের কাছ থেকে দেশের মানুষের আত্মমর্যাদাসম্পন্ন আচরণ আশা করা যায় না। নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিই প্রমাণ করে একটি দলের মানসিকতা ও রাষ্ট্রচিন্তা কতটা মানবিক।
বিএনপি চেয়ারম্যান আরও বলেন, কুমিল্লা জেলার এক গুপ্ত দলের নেতা প্রকাশ্যে বলেছেন—১২ তারিখ পর্যন্ত তারা জনগণের পা ধরবেন, আর ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এই বক্তব্যই প্রমাণ করে জনগণকে তারা কতটা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে। এমন মানসিকতার মানুষ ক্ষমতায় গেলে জনগণের জীবনে কী ধরনের দুর্বিষহ পরিণতি নেমে আসবে, তা সহজেই অনুমেয়। তাই এসব গুপ্ত জালেমদের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক ও সচেতন থাকতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে তারা বরাবরই এক কাতারে ছিল। ১৯৭১, ১৯৮৬, ১৯৯৬ এবং গত ১৫ বছর—প্রতিবারই তারা ছিল স্বৈরাচারের সহযোগী। এরা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ ছাড়া কিছু নয়।
বরিশালের সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সংকট নদীভাঙন। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ জরুরি। বিএনপির আমলে অনেক উন্নয়ন কাজ শুরু হলেও শেষ করা যায়নি। সেগুলো জমে আছে। জনগণ সঠিক সিদ্ধান্ত নিলে বিএনপি জয়ী হয়ে এসব সমস্যার বাস্তব সমাধানে কাজ করবে।
নারীর ক্ষমতায়ন প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, নারীদের ঘরে বন্দি রেখে দেশকে সামনে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নারী-পুরুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলেই একটি প্রত্যাশিত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, গুপ্ত দলগুলো নারী সমাজকে নিয়ে বিদ্বেষপূর্ণ ও অপমানজনক বক্তব্য দিয়ে নিজেদের অমানবিক মানসিকতা প্রকাশ করেছে। তারা ক্ষমতায় গেলে জনজীবনে অরাজকতা ও দুর্বিষহ পরিস্থিতি তৈরি হবে। সুতরাং গণতন্ত্র ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা রক্ষায় এসব শক্তিকে উপযুক্ত শিক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব জনগণের হাতেই।