দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে দাউদকান্দিকে জেলা ঘোষণা করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি মাটি ও মানুষের দল—উন্নয়ন ও উৎপাদনের রাজনীতিতে বিশ্বাসী। অথচ একটি পক্ষ ধর্মকে পুঁজি করে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ছড়িয়ে মানুষের ঈমান-আকিদার ওপর আঘাত হানছে। দেশের মানুষ পবিত্র কুরআন ও সহিহ হাদিসের উদ্ধৃতি ছাড়া ভাওতাবাজি রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে তুজারভাঙ্গা গ্রামের আইডিয়াল স্কুল মাঠে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ শেষে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খন্দকার মোশাররফ বলেন, বিএনপি সরকারের সময়ে তিনি মন্ত্রী থাকাকালীন দাউদকান্দি এলাকায় বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক, সংযোগ সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব অবকাঠামো ভেঙে ধ্বসে পড়ে আজ বেহাল দশায়—যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পরিকল্পিত ও টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাকে নতুন করে সমৃদ্ধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের আন্দোলনের মুখে এক পক্ষ পালাতে বাধ্য হলেও দুঃখজনকভাবে আরেকটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করতে গোপন ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সবাইকে সজাগ ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপি সবসময় রাজপথে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির সামনে কোনো ষড়যন্ত্রই টিকবে না। দেশের মানুষ এখন পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত।
দেশের উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশপ্রেমিক জনগণের সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বিপুল ভোটে ধানের শীষের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সভায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানানো হয় এবং দেশবিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখে দিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন বক্তারা।
সাবেক উপজেলা যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেনের সঞ্চালনায় এবং বিএনপির ৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি মোস্তফা হাজির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন—প্রধান বক্তা বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মারুফ হোসেন, সাবেক উপজেলা বিএনপি সভাপতি এ কে এম সামচ্ছুল হক, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পিটার চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার ও মোস্তাক সরকার, সদস্য সচিব কাউছার আলম সরকার, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদলের গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মামুন হোসেন ভূঁইয়া, ভিপি সাহাবুদ্দিন ভূঁইয়া, শরীফ চৌধুরী, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর সাকিব আহমেদ, পৌর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাসেল মিয়া, পৌর জাসাসের আহ্বায়ক মোল্লা সোহেল, মো. পাভেল প্রধানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।