এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। নির্বাচনকে ঘিরে দেশজুড়ে প্রায় ৮ লাখ ৯৭ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ২০তম সভা শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় নির্বাচনে জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন ও ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, নির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দুই ধাপে মোতায়েন থাকবে। প্রথম ধাপে চলমান দায়িত্ব অব্যাহত থাকবে এবং দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক মোতায়েন হবে, যা ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন চলবে। পুরো নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয় থাকবে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে।
নির্বাচনে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, কোস্টগার্ড এবং র্যাবের পাশাপাশি ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন থাকবে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে, যেখানে প্রতিটি বাহিনীর প্রতিনিধি থাকবেন।
নির্বাচনকালীন জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে ৯৯৯ নম্বরের বিশেষ টিম গঠন করে আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। প্রাপ্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট এলাকার কন্ট্রোল সেলে পাঠানো হবে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও জানান, এবারের নির্বাচনে মোট ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র থাকবে। এর মধ্যে ৮ হাজার ৭৮০টি কেন্দ্রকে ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রসহ গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের আরেকটি নতুন সংযোজন হিসেবে এবার ৪১৮টি ড্রোন ব্যবহার করা হবে। সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, পুলিশ, বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব ও আনসারের ড্রোনগুলো সমন্বিতভাবে নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে। প্রয়োজনে ডগ স্কোয়াডও মোতায়েন থাকবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তায় সবচেয়ে কার্যকর প্রযুক্তি হিসেবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ–২০২৬’ ব্যবহারের কথা জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এনটিএমসি নির্মিত এই অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।
এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে চলমান অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ–২ অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অভিযানে প্রায় ১৯ হাজার ৮৫৪ জন গ্রেপ্তার এবং বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা হুঁশিয়ার করে বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। নির্বাচন পূর্ববর্তী চার দিন দেশজুড়ে নিবিড় টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ের শেষাংশে তিনি সাংবাদিকদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশবাসী একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন উপহার পাবে—ইনশাআল্লাহ।