নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির ইতিহাস শুধু ক্ষমতার রাজনীতি নয়—এটি আত্মগোপন, ত্যাগ, নিঃস্বতা আর নিঃশব্দ মৃত্যুর ইতিহাস। হারিস চৌধুরীর জীবন তার সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ। জমিদার বংশে জন্ম নেওয়া, মেধাবী ছাত্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার যোগ্য একজন মানুষ রাজনীতিতে এসে সব হারিয়েছেন। নাম-পরিচয় বদলে পান্থপথে বাসা ভাড়া নিয়ে, গাউছিয়ার কাপড়ের দোকানে সেলসম্যানের কাজ করে নেহাত দীনহীনভাবে জীবন কাটিয়েছেন। সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস। এই কি কোনো “গুপ্ত” জীবন? নাকি রাষ্ট্রযন্ত্রের ভয়াবহ দমননীতির নগ্ন দলিল?
এই গল্প একা হারিস চৌধুরীর নয়। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেই কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেছেন—অসংখ্য বিএনপি কর্মী গ্রাম-শহর ছেড়ে ঢাকায় পালিয়ে এসে নাম-পরিচয় লুকিয়ে রিকশা চালিয়েছে, পাঠাও চালিয়েছে, দিনমজুরের জীবন বেছে নিয়েছে। এটা অপরাধ নয়, এটা লজ্জা নয়—এটাই সংগ্রামের গৌরব।
ওসমান হাদীর নাম কোচিং সেন্টারের বইয়ে থাকলেও, নিজের কবিতার বই ছদ্মনামে প্রকাশ করতে হয়েছে—কারণ সত্য বলার সাহস তখন রাষ্ট্রের চোখে অপরাধ। এই বাস্তবতাকে অস্বীকার করে আজ “গুপ্ত”, “সুপ্ত” শব্দ ছুড়ে দেওয়া মানে শুধু রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং নিজেদেরই ইতিহাসকে অস্বীকার করা।
প্রশ্ন হচ্ছে—তারেক রহমান “গুপ্ত” বা “সুপ্ত” আখ্যা দিয়ে কাদের সংগ্রাম আর ত্যাগের গল্প ঢাকতে চাইছেন? যারা জীবন বাজি রেখে দলটিকে টিকিয়ে রেখেছেন, তাদের রক্ত-ঘামের ইতিহাস কি শব্দচাতুর্যে মুছে ফেলা যায়?
প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে হলে যুক্তি লাগে, নৈতিকতা লাগে, রাজনৈতিক শালীনতা লাগে। ইতিহাস বিকৃতি করে, সহযোদ্ধাদের ত্যাগকে হেয় করে নয়। এই পথ প্রতিপক্ষকে দুর্বল করে না—বরং নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সংগ্রাম লুকানোর বিষয় নয়, সংগ্রামই রাজনীতির মূল শক্তি। যারা এই শক্তিকে “গুপ্ত” বানাতে চায়, ইতিহাস একদিন তাদেরই মুখোশ খুলে দেবে।