নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মুহূর্তের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আহ্বানে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির একটি জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বৈঠকটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এটি কোনো পূর্বনির্ধারিত বা নিয়মিত বৈঠক নয়। নির্দিষ্ট কোনো এজেন্ডাও আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয়নি। কিন্তু রাজনীতির ভাষায়—এই ‘নির্দিষ্ট এজেন্ডাহীন’ বৈঠকই হতে যাচ্ছে বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নির্ধারণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের ক্ষেত্র।
দলের এক সিনিয়র নেতা জানিয়েছেন, এই বৈঠকেই তারেক রহমানকে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করা হতে পারে। দীর্ঘ ৬ বছরের ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব শেষে এবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের শীর্ষ নেতৃত্বে অধিষ্ঠিত হতে পারেন—এমন বার্তাই ঘুরপাক খাচ্ছে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামে।
গত ৩০ ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দল ও জাতি হারিয়েছে একজন আপোষহীন গণতান্ত্রিক নেত্রীকে। শোকের আবহ ধীরে ধীরে কাটিয়ে রাজনৈতিক বাস্তবতায় ফিরছে বিএনপি। সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন—এই প্রেক্ষাপটে নেতৃত্বের প্রশ্নটি আর বিলম্বিত রাখার সুযোগ নেই বলেই মনে করছেন দলটির শীর্ষ নেতারা।
এরই ধারাবাহিকতায় জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরাই তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছেন বলে দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। বিষয়টি প্রকাশ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “দুই-একদিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে বিএনপির চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর দলের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় তারেক রহমানকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। সেই সময় থেকে দল পরিচালনা, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগে তিনি কার্যত বিএনপির প্রধান নেতৃত্বে রয়েছেন।
আজকের বৈঠক তাই শুধুই একটি জরুরি সভা নয়; এটি বিএনপির নেতৃত্ব পুনর্গঠন, রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা এবং আগামী নির্বাচনের কৌশল নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক অধ্যায় হয়ে উঠতে পারে। সিদ্ধান্ত যা-ই হোক, এই বৈঠকের ফলাফল দেশের রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে—এ বিষয়ে সন্দেহ নেই।