বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, কারাবাস ও দমন–পীড়নের প্রতিটি অধ্যায়ে যিনি নীরবে পাশে ছিলেন, সেই ফাতেমা বেগমকে এবার দেখা গেল খালেদা জিয়ার নাতনি জাইমা রহমানের পাশে। এই দৃশ্য শুধু আবেগঘন নয়, বরং বিএনপির রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক গভীর প্রতীকী বার্তাও বহন করছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতাকর্মীরা।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে গিয়ে জাইমা রহমানের সঙ্গে ছিলেন ফাতেমা। বহনকারী গাড়ি থেকে জাইমা রহমান নামার সময় ঠিক পেছনেই ফাতেমার উপস্থিতি অনেকের নজর কাড়ে। মুহূর্তেই এই দৃশ্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর জাইমা রহমানের দৈনন্দিন চলাফেরা ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ফাতেমা নিয়মিত সঙ্গ দিচ্ছেন। দলের একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, “খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে যেমন দায়িত্ব পালন করেছেন, প্রায় একইভাবে এখন জাইমা রহমানের পাশেও তাকে দেখা যাচ্ছে।”
২০১০ সাল থেকে ফাতেমা বেগম খালেদা জিয়ার সার্বক্ষণিক সঙ্গী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন। শুরুতে গৃহকর্মী হিসেবে দায়িত্ব নিলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হন। খালেদা জিয়ার ওষুধ, খাবার, চলাফেরা থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সময় মনে করিয়ে দেওয়া—সব কিছুতেই তার নীরব কিন্তু নির্ভরযোগ্য উপস্থিতি ছিল সর্বজনবিদিত।
২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার মামলায় খালেদা জিয়াকে কারাগারে পাঠানো হলে, আইনজীবীদের আবেদনের পর ফাতেমাকে গৃহপরিচারিকা হিসেবে সঙ্গে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়। কারাবাস শুরুর মাত্র ছয় দিনের মাথায় তিনি স্বেচ্ছায় কারাগারে প্রবেশ করেন এবং টানা প্রায় ২৫ মাস খালেদা জিয়ার সঙ্গে সেখানেই অবস্থান করেন—যা বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিরল মানবিক দৃষ্টান্ত হিসেবেই বিবেচিত।
আওয়ামী লীগ সরকারের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) দমনমূলক শাসনামলে বিএনপির আন্দোলনের কঠিন সময়গুলোতেও ফাতেমার উপস্থিতি ছিল অবিচল। ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলের প্রতিবাদে গুলশান কার্যালয়ে খালেদা জিয়াকে অবরুদ্ধ করা থেকে শুরু করে ২০১৫ সালে টানা ৯২ দিন কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার সময়—সব ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন নীরব সাক্ষী ও সহচর।
ভোলার বাসিন্দা, প্রায় ৪০ বছর বয়সী স্বল্পভাষী ফাতেমা এক সন্তানের জননী। বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতার মাধ্যমে গুলশানের ‘ফিরোজা’য় কাজের সূত্রপাত হলেও, সময়ের পরিক্রমায় তিনি কেবল একজন গৃহকর্মী নন—বরং বিএনপির ইতিহাসের সবচেয়ে দুঃসময়ের নীরব সাক্ষ্য হয়ে উঠেছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, খালেদা জিয়ার পর জাইমা রহমানের পাশে ফাতেমার উপস্থিতি কেবল ব্যক্তিগত দায়িত্ব পালনের বিষয় নয়; এটি বিএনপির নেতৃত্ব, উত্তরাধিকার ও আবেগী রাজনীতির ধারাবাহিকতার এক শক্ত প্রতীক হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।