বঙ্গনিউজবিডি ডেস্ক: : বেইলি রোডের ভয়াবহ আগুনে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী নাহিয়ান আমিন ও লামিশা ইসলাম মারা গেছেন বলে দাবি করেছেন তারা বন্ধুরা।
বৃহস্পতিবার রাতে নাহিয়ানের মৃত্যুর খবর জানিয়ে নটরডেম কলেজ অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেজে পোস্ট দেয়া হয়েছে।
পোস্টে বলা হয়েছে, নটরডেম কলেজের সাবেক ছাত্র ও বুয়েটের ইইই বিভাগে বর্তমানে অধ্যয়নরত নাহিয়ান আমিন আগুনের পুড়ে মারা গেছেন।
নাহিয়ানের মৃত্যু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক পোস্টের মাধ্যমে নাহিয়ানের বন্ধু জুনায়েদ বলেন, ‘নাহিয়ান একবার আমাকে বলেছিল, এখানে থাকলে একদিন হয় রোড এক্সিডেন্টে মারা যাব, না হলে আগুনে পুড়ে। এত দ্রুত নাহিয়ানের কথা সত্যি হয়ে যাবে কল্পনাও করতে পারিনি।’
নাহিয়ানের আরেক বন্ধু তৌসিফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, বরিশাল জিলা স্কুলের সাবেক ছাত্র নাহিয়ানের সঙ্গে আগামীতে অনেক আড্ডা ও গেট টুগেদারের পরিকল্পনা ছিল তাদের। সব কিছু অকল্পনীয়ভাবে এক নিমিষে শেষ হয়ে গেল।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঘেঁটে দেখা যায়, মৃত্যুর ১৯ ঘণ্টা আগেও ফেসবুকে ২৯ ফেব্রুয়ারি লিপ ইয়ায়ের দিনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে নাহিয়ান লিখেছিল, ‘হয়তো চার বছর পর আবার ২৯ ফেব্রুয়ারির এমন একটা দিনের দিকে ফিরে তাকাব।’
নাহিয়ানের দেয়া শেষ পোস্টটির স্ক্রিনশট ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। নাহিয়ানের বন্ধুবান্ধবদের অনেকে জানিয়েছেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় লামিশা ইসলাম নামে আরেকজন বুয়েটের শিক্ষার্থী ওই বিল্ডিংয়ে ছিলেন। তিনিও মারা গেছেন। লামিশা ২২ ব্যাচের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেল থেকে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার (২৯ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ৫০ মিনিটে আগুন লাগার খবর পান তারা। প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ৯টা ৫৬ মিনিটে। পরে আগুনের ভয়াবহতা ছড়িয়ে পড়লে আরও ১২টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে পুলিশ, আনসার, র্যাব ও এনএসআই। ১৩টি ইউনিটের ২ ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ১১টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ওই ভবনটিতে পিজ্জা ইন, স্ট্রিট ওভেন, খানাসসহ আরও রেস্টরেন্ট রয়েছে। এছাড়া ইলিয়েন, ক্লোজেস্ট ক্লাউডসহ জনপ্রিয় বিপণিবিতানও রয়েছে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আগুনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জনে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন ৪৩ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিতের পর রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে আরও একজন মারা গেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও ঢামেকে ভর্তি আছেন আরও ২২ জন। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক।