বঙ্গনিউজবিডি ডেস্ক : গাজীপুরে ভাওয়াল রেলস্টেশনের কাছে লাইনে নাশকতায় ‘মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস’ ট্রেনের সাতটি বগি লাইনচ্যুতের ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। এ ঘটনার পর থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
আজ ভোর ৪টা ১০ মিনিটে গাজীপুরের বনখড়িয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেন দুর্ঘটনার পর বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকে পড়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন এসব ট্রেনে থাকা শত শত যাত্রী। দেখা দিয়েছে ট্রেনের সিডিউল বিপর্যয়।
নিহত ব্যক্তির নাম আসলাম। ৪২ বছর বয়সী আসলাম ময়মনসিংহের গফরগাঁও থানার রৌহা সাইটা এলাকার মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। তিনি মুরগি ব্যবসা করতেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, ভোর ৪টা ১০ মিনিটের দিকে ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গাজীপুরের বনখড়িয়া এলাকার ছিলাই বিলের পাশে পৌঁছলে দুর্বৃত্তদের কেটে রাখা রেললাইনের অংশে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের সাতটি বগি বিকট শব্দে লাইনচ্যুত হয়ে দুমড়ে মুচড়ে যায়। আশপাশের লোকজন গিয়ে পুলিশকে খবর দিলে রেলওয়ে পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন জানান, নেত্রকোনা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভাওয়াল স্টেশনের এক কিলোমিটার উত্তরে বনখড়িয়া এলাকায় প্রবেশের সময় ট্রেনের ইঞ্জিনসহ ৭টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ট্রেনের যাত্রী আসলাম নিহত ও অর্ধশতাধিক আহত হন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে গিয়ে হতাহতের উদ্ধার করছে।
দুর্ঘটনার পর ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহ রুটের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিভিন্ন স্টেশনে কয়েকটি ট্রেন আটকা পড়েছে। দুর্ঘটনার পর বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আবুল ফাতে মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম বলেন, নাশকতাকারীরা রেললাইনের অন্তত ২০ ফুট অংশ কেটে নিয়েছে। এতে এক যাত্রী নিহত হয়েছেন।
গাজীপুর পুলিশ সুপার সফিকুল ইসলাম বলেন, জড়িতদের শনাক্তসহ তাদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
এরপর থেকেই টানা হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করে আসছে বিএনপিসহ বিরোধী দলগুলো। এরই অংশ হিসেবে ১১ দফার অবরোধ চলছে। এই দফা অবরোধের শেষ দিন ভোরে গাজীপুরে রেললাইন কেটে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। তবে অবরোধকারীরা না অন্য কেউ এই কাজ করেছে তা এখনো স্পষ্ট নয়।