✍️ এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল,ঢাকা: দেশের পরিবেশ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য আজ এক গভীর সংকটের মুখে দাঁড়িয়ে আছে বলে সতর্ক করেছেন পরিবেশবিদরা। নির্বিচারে পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং নদী দখল-দূষণের ফলে বাংলাদেশ তার প্রাকৃতিক সুরক্ষা বলয় দ্রুত হারাচ্ছে—যা এখন শুধু পরিবেশগত নয়, বরং অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও অস্তিত্বের সংকটে রূপ নিয়েছে।
সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট মুভমেন্টের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল লতিফ জনি বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, দুর্বল নীতিনির্ধারণ এবং প্রভাবশালী মহলের দখলদারিত্বের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলেও বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং জবাবদিহিতার অভাব পরিবেশ ধ্বংসকে আরও ত্বরান্বিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী দখল, খাল-বিল ভরাট এবং অবৈধ স্থাপনা নির্মাণে প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ বারবার উঠলেও কার্যকর আইন প্রয়োগ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। ফলে পরিবেশ সুরক্ষায় রাজনৈতিক অঙ্গীকার নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
নদীমাতৃক বাংলাদেশের প্রাণপ্রবাহ আজ মারাত্মক হুমকির মুখে। নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাড়ছে বন্যা, জলাবদ্ধতা এবং কৃষি সংকট। একসময় নদী ও খাল পুনঃখনন প্রকল্প কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও বর্তমানে সেই উদ্যোগ অনেকটাই স্থবির হয়ে পড়েছে, যা খাদ্য নিরাপত্তার জন্যও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়েও চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। উজানে ভারতের বিভিন্ন বাঁধ, বিশেষ করে ফারাক্কা এবং প্রস্তাবিত টিপাইমুখ প্রকল্পের কারণে বাংলাদেশের নদীগুলোর পানিপ্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় অবিলম্বে সমন্বিত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে ১৯৫২ সালের ভূমি নকশা অনুযায়ী নদী পুনরুদ্ধার, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত অভিযান পরিচালনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে নদী, বন, পাহাড় ও জলাশয় রক্ষায় রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ রেখে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। পরিবেশ রক্ষায় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসম্পৃক্ততাই হতে পারে এই সংকট উত্তরণের একমাত্র পথ।