নিজস্ব প্রতিবেদক : দাউদকান্দিতে একদিকে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শক্তিশালী করা, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের পানি নিষ্কাশন সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ—দুই ক্ষেত্রেই সমন্বিত বার্তা দিল উপজেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্ব। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দাউদকান্দি উপজেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা এবং উপজেলা পরিষদের সভায় গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যা স্থানীয় উন্নয়ন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন মাত্রা দেবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারের সভাপতিত্বে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের এডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সরকার সেলিমসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর বার্তা
সভায় উপজেলার সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস দমন, বাজার নিয়ন্ত্রণ, যানজট নিরসন, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ, চুরি প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা জোরদারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও কার্যকর ও সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, দাউদকান্দিকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও বিনিয়োগবান্ধব এলাকায় পরিণত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস কিংবা সামাজিক অবক্ষয় বরদাস্ত করা হবে না। জনসম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
দুই খাল ‘অতি জরুরি’ ঘোষণা: উন্নয়নের বাস্তব রূপ
একই দিনে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদের মাসিক সভায় সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী দুইটি খালকে ‘অতি জরুরি খাল’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। খাল দুটি হলো—
মাইথারকান্দি খাল পুনঃখনন: কালাডমুর নদীর মোহনা হাটচান্দিনা থেকে বারপাড়া পর্যন্ত।
আনার খাল পুনঃখনন: গোমতী নদীর সুইচ গেট থেকে গোমতী নদী পর্যন্ত।
খাল দুটির নাম ইতোমধ্যে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্দেশনায় ঈদের পরপরই দ্রুত পুনঃখনন কাজ শুরু হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—একই সূত্রে গাঁথা বার্তা
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আইন-শৃঙ্খলা জোরদার এবং পানি ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় পদক্ষেপ—দুই সিদ্ধান্তই সরকারের ঘোষিত প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতা। এটি কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন—যেখানে উন্নয়ন ও সুশাসনকে একই সূত্রে গাঁথা হয়েছে।
সভা শেষে ড. মারুফ হোসেনের পক্ষ থেকে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি নিরাপদ, সুশাসিত ও মানবিক দাউদকান্দি গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়। স্থানীয়দের বিশ্বাস, যদি ঘোষিত পদক্ষেপসমূহ দ্রুত বাস্তবায়ন হয়, তবে দাউদকান্দি উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে সক্ষম হবে।