নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লার দাউদকান্দিতে গ্যাস লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টার দিকে পৌরসভার মাইজপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ভোরের নীরবতা ভেঙে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ঘরের ভেতরে।
দগ্ধরা হলেন—মনোয়ারা বেগম (৬০), জিল হক (৩৭), উম্মে হুমায়রা (৩০) ও দুই বছরের শিশু হুররাম (২)। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাদের দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ রেফার করা হয়।
প্রতিষ্ঠানটির আবাসিক সার্জন শাওন বিন রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মনোয়ারা বেগমের শরীরের ২ শতাংশ, জিল হকের ৫৪ শতাংশ, উম্মে হুমায়রার ৬৫ শতাংশ এবং শিশু হুররামের ৬ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বিশেষ করে জিল হক ও উম্মে হুমায়রার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
প্রশ্ন উঠছে গ্যাস নিরাপত্তা নিয়ে
এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাস লিকেজ ও বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা বারবার ঘটলেও স্থায়ী প্রতিকার দেখা যায় না। সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতা, লাইনের রক্ষণাবেক্ষণে অব্যবস্থা এবং তদারকির অভাব নিয়ে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অবকাঠামোগত উন্নয়নের বড় বড় ঘোষণার আড়ালে নাগরিক নিরাপত্তার মৌলিক বিষয়গুলো বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে রেখে দায়িত্বহীনতার এই সংস্কৃতি চলতে পারে না। স্থানীয় প্রশাসন ও গ্যাস বিতরণকারী সংস্থার জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
দায় নির্ধারণ ও তদন্তের দাবি
এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন, গ্যাস লাইনের নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের চিকিৎসা ব্যয় রাষ্ট্রীয়ভাবে বহনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কঠোর নজরদারি ও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
একটি উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে নাগরিকের জীবন নিরাপত্তা কোনোভাবেই অবহেলার বিষয় হতে পারে না। দাউদকান্দির এই বিস্ফোরণ আবারও মনে করিয়ে দিল—কাগুজে উন্নয়ন নয়, প্রয়োজন বাস্তব নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও কার্যকর জবাবদিহি।