নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়েকোবাদ নিজেকে ‘মাননীয়’ নয়, বরং ‘জনগণের কামলা’ হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষায়, জনগণের ভোটে দায়িত্ব পাওয়া একজন কর্মী হিসেবেই তিনি কাজ করতে চান—উপাধির চেয়ে দায়িত্ববোধই তার কাছে বড়।
বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, “আপনারা যে মাননীয় মন্ত্রী বলেন, আমি কিন্তু জনগণের কামলা। মাননীয় মন্ত্রী বললে খারাপ লাগে, কারণ জনগণ ভোট দিয়েছে কাজ করার জন্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে জনগণের কামলা হিসেবে তাদের কাজ করার জন্য নিয়োগ দিয়েছেন। মাননীয় মন্ত্রী বললে একটু খারাপ লাগে, কায়কোবাদ বললেই হবে।”
তার এই বক্তব্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের প্রচলিত সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে একধরনের সেবক-নেতৃত্বের বার্তা উঠে এসেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ক্ষমতার অলংকার নয়, দায়িত্বের ভারই যে মুখ্য—ধর্মমন্ত্রীর কথায় সেই দর্শনই প্রতিফলিত হয়েছে।
রমজানকে সামনে রেখে দেশবাসীর প্রতি বিশেষ আহ্বানও জানান তিনি। ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আপনাদের (সাংবাদিক) মাধ্যমে জনগণের কাছে একটা আহ্বান জানাই—বাংলাদেশের মুসলমান ভাই-বোনেরা, এই রমজান অত্যন্ত পবিত্র মাস। আপনারা সবাই দুই রাকাত নফল নামাজ পড়ে দোয়া করবেন, যাতে করে আল্লাহ আমাদের হেদায়েত নসিব করেন, সহিহ বুঝ দান করেন, আমরা যেন আল্লাহর হুকুম অনুযায়ী দেশটা চালাতে পারি।”
তার এই আহ্বানকে অনেকে আধ্যাত্মিক আত্মশুদ্ধি ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রতি প্রতিশ্রুতির প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। দায়িত্ব গ্রহণের প্রারম্ভিক সময়ে এমন বক্তব্য সরকারের নীতি-নৈতিকতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্নে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ইঙ্গিত বলেও মনে করা হচ্ছে।