নিজস্ব প্রতিবেদক : ছুটি নিয়ে কয়েকদিনের নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে রমজান মাসের পুরো সময় সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানায়।
এর আগে শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী ৮ মার্চ থেকে রোজা ও ঈদের ছুটি শুরুর কথা থাকলেও দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে নতুন সরকার। রোজার প্রথম দিন থেকেই স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশোধিত ছুটির তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ প্রকাশ করেছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শাহানা শারমিন জানান, সংশোধিত শিক্ষাপঞ্জি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।
২৬ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি, ২৯ মার্চ ক্লাস শুরু
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমিক ও নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঈদের ছুটি চলবে ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) পর্যন্ত। পরবর্তী দুই দিন সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ২৯ মার্চ থেকে শ্রেণিকক্ষে ফিরবে শিক্ষার্থীরা।
অন্যদিকে কলেজগুলোতেও বুধবার থেকে ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে; ক্লাস শুরু হবে ২৯ মার্চ। মাদ্রাসাগুলো আগেই রোজাজুড়ে বন্ধ ঘোষণা করেছিল।
পটভূমি: আদালত পর্যন্ত গড়ায় ছুটি বিতর্ক
চলতি বছর শুরুতে সিদ্ধান্ত ছিল—রোজার মধ্যেও ৮ মার্চ পর্যন্ত প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে। তবে মাদ্রাসা ও কলেজ রোজাজুড়ে বন্ধ রাখার ঘোষণার পর ‘ছুটির বৈষম্য’ ইস্যু সামনে আসে।
এই প্রেক্ষাপটে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইলিয়াছ আলী মণ্ডল হাইকোর্টে রিট করেন। হাইকোর্ট পুরো রমজান মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধ রাখার আদেশ দিলেও পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আবেদনে আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব সেই আদেশ স্থগিত করেন।
অবশেষে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেই রোজার পুরো মাস স্কুল বন্ধ রাখার পথেই হাঁটল সরকার।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন, গণভোট ও শিবরাত্রী ব্রত উপলক্ষে টানা পাঁচ দিনের ছুটির পর সোমবার থেকে ক্লাস শুরু হয়েছিল। তবে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা খাতে প্রথম বড় নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে রমজানের পূর্ণাঙ্গ ছুটির সিদ্ধান্ত এলো।
সরকার বলছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছুটির সমন্বয় ও শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের সুবিধা বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।