নিজস্ব প্রতিবেদক : নতুন সংসদের প্রথম দিনেই বিরোধী রাজনীতির রূপরেখা স্পষ্ট করল জামায়াত জোট। সচিবালয়ের ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ডা. শফিকুর রহমান। উপনেতার দায়িত্বে থাকছেন ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং বিরোধী দলীয় হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাহিদ ইসলাম।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন-এর কাছে শপথ নেন জামায়াত ও জোটের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথকে ঘিরে আগে কিছুটা অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত কৌশলগত সিদ্ধান্তেই এগিয়েছে জোট।
সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে শপথ গ্রহণ নিয়ে জোটের ভেতরে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। উপনেতা তাহের আগে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন—সংস্কার পরিষদে অংশগ্রহণের প্রশ্নে সমন্বিত অবস্থান না হলে শপথ নেয়ার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হবে। তবে দুপুরে সংসদ ভবনে জরুরি বৈঠকে বসে নবনির্বাচিত সদস্যরা রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেন—সংসদে থেকে লড়াই-ই হবে তাদের কৌশল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী দলে থেকে সংসদীয় লড়াইয়ের ঘোষণা জামায়াত জোটের জন্য দ্বিমুখী বার্তা বহন করে। একদিকে সরকারকে সংসদে জবাবদিহির আওতায় রাখার অঙ্গীকার, অন্যদিকে সংস্কার প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান অটুট রাখার কৌশল। ফলে নতুন সংসদে সরকার–বিরোধী সম্পর্ক কতটা সংঘাতময় বা সমঝোতামূলক হবে, তা অনেকটাই নির্ভর করবে সংস্কার এজেন্ডা ও আইন প্রণয়নের গতিপথের ওপর।
এখন নজর—বিরোধী আসনে বসে জামায়াত জোট কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, এবং সংস্কার প্রশ্নে তাদের ঘোষিত রাজনৈতিক কণ্ঠ কতটা ধারালো হয়। নতুন সংসদের পথচলায় বিরোধী রাজনীতির এই বিন্যাস তাই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।