নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার পরই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ভিন্ন বার্তা দিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিয়েছেন—সরকারের কাছ থেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি কিংবা সরকারি প্লট নেবেন না। সংসদীয় দলের সভাকক্ষে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, যা রাজনীতিতে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থাকার অঙ্গীকার হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।
সভায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর মধ্য দিয়ে সংসদে দলের কৌশলগত নেতৃত্বও চূড়ান্ত হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সুবিধা বর্জনের এই ঘোষণার সঙ্গে নেতৃত্বের এই আনুষ্ঠানিকতা মিলিয়ে বিএনপি একটি বার্তা দিতে চেয়েছে—ক্ষমতা মানে প্রাপ্তি নয়, দায়বদ্ধতা।
এর আগে সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথপত্রে নিজ নিজ আসনের নাম লিখে স্বাক্ষর করেন এমপিরা। অনুষ্ঠানটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জয়ী হয়েছে ৬৮টি আসনে। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) পেয়েছে ৬টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। ফলাফল বলছে, নতুন সংসদে বিরোধী কণ্ঠ থাকবে, তবে সংখ্যার বিচারে সরকার গঠনে বিএনপির পথ সুগম।
রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ সুবিধা গ্রহণ নিয়ে যে সমালোচনা ছিল, তার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত একটি প্রতীকী মোড়। ক্ষমতার অলংকার নয়, দায়িত্বের ভার—এমন বার্তাই যেন তুলে ধরতে চাইছে বিএনপি। সামনে সরকার গঠন ও নীতিনির্ধারণের চ্যালেঞ্জ; তার আগে এই ঘোষণাকে অনেকেই দেখছেন রাজনৈতিক সংস্কারের প্রারম্ভিক ইঙ্গিত হিসেবে।
এখন দেখার বিষয়—এই সংযমের রাজনীতি কতটা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় এবং তা অন্য দলগুলোর ওপর কতটা প্রভাব ফেলে। তবে আপাতত বলা যায়, নতুন সংসদের শুরুতেই প্রতীকী হলেও একটি রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেছে বিএনপি।