নিজস্ব প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় রাষ্ট্র পুনর্গঠন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জাতীয় ঐক্যের প্রশ্ন এখন সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক এজেন্ডা হয়ে উঠেছে। রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা-এ আয়োজিত নির্বাচনোত্তর সংবাদ সম্মেলনে তারেক রহমান দেশের সব রাজনৈতিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে রাষ্ট্র গঠনের কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর এই শীর্ষ নেতা বলেন, নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে শক্তিশালী করেছে। মতভিন্নতা থাকলেও রাষ্ট্রের প্রশ্নে সবাইকে একই কাতারে দাঁড়াতে হবে বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন।
তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন-সহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়কে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এই বিজয় কোনো দলের একক বিজয় নয়—এটি জনগণের বিজয় এবং নতুন বাংলাদেশ গড়ার ম্যান্ডেট।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান—
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি,
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-কে।
সংবাদ সম্মেলনে দেশের ভঙ্গুর অর্থনৈতিক কাঠামো, দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসকে নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়টি শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের নয়—বরং রাষ্ট্রের নীতি, প্রতিষ্ঠান এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো পুনর্গঠনের পরীক্ষার সময়।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। ফলে রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠাই হবে আগামী সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ।