বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ঐতিহাসিক বিজয়ের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকেও আসতে শুরু করেছে অভিনন্দনের বার্তা। এবার ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস এক আনুষ্ঠানিক বার্তায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান-কে শুভেচ্ছা জানিয়েছে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে বলা হয়, “একটি সফল নির্বাচন আয়োজনের জন্য বাংলাদেশের জনগণকে অভিনন্দন। বিএনপি ও তারেক রহমানকে তাদের ঐতিহাসিক বিজয়ের জন্য শুভেচ্ছা। আমাদের দুই দেশের সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র আপনাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী।”
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠনের পথে এগিয়েছে বিএনপি। দীর্ঘ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, আন্দোলন-সংগ্রাম এবং প্রায় ১৭ বছরের প্রবাসজীবন শেষে দেশে ফিরে আসা তারেক রহমানের জন্য এই বিজয় কেবল একটি নির্বাচনী সাফল্য নয়—এটি তার রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পূর্ণতা। দেশে ফেরার মাত্র ছয় দিনের মাথায় দলীয় নেতাকর্মীদের আবেগঘন মুহূর্তের মধ্যেই হারান তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-কে। ব্যক্তিগত শোকের ভার নিয়েই তিনি দলকে নির্বাচনী লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেন।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অভিনন্দন বার্তা কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাৎপর্যপূর্ণ। এটি একদিকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, অন্যদিকে সম্ভাব্য নতুন সরকারের সঙ্গে ওয়াশিংটনের কাজ করার আগ্রহের স্পষ্ট ইঙ্গিত। দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বাংলাদেশের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরুর বার্তা হিসেবেও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনের ফলাফল এখন শুধু সরকার গঠনের সমীকরণ নয়; এটি আগামী দিনের নীতিনির্ধারণ, বৈদেশিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার দিকনির্দেশনাও নির্ধারণ করবে। বিজয়ের উচ্ছ্বাসের মধ্যেও এখন বড় চ্যালেঞ্জ—অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা।
বিএনপির সামনে তাই শুধু ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তনের সুযোগ নয়, বরং একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায় রচনার দায়ও এসে গেছে।