স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের ভোটে রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কোনো ধরনের কম্প্রোমাইজ করবে না বিএনপি। আইন নিজের গতিতে চলবে এবং অপরাধী যে-ই হোক, তার সঙ্গে আপস করা হবে না।
সোমবার রাজধানীর মতিঝিলের পীরজঙ্গি মাজার রোডে ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাসের সমর্থনে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, “সরকার গঠন করতে পারলে আমাদের প্রথম কাজ হবে কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এমন একটি দেশ গড়তে চাই, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে চলাফেরা করবেন, মানুষ নিশ্চিন্তে চাকরি ও ব্যবসা করবে এবং রাতে শান্তিতে ঘুমাতে পারবে।”
দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “২০০১ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যেভাবে দেশকে দুর্নীতির কবল থেকে বের করে এনেছিলেন, ভবিষ্যতেও বিএনপি সেভাবেই দুর্নীতি দমনে কাজ করবে। এ ক্ষেত্রে আইন কারো মুখ চেয়ে চলবে না।”
প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে ইঙ্গিত করে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “অনেকে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বড় বড় কথা বলেন, হাততালি কুড়ান। কিন্তু দেশ পরিচালনা এত সহজ নয়। দেশ চালাতে হলে মানুষের জন্য বাস্তব পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অভিজ্ঞতা দরকার—যা তাদের নেই।”
তিনি আরও বলেন, “যারা গত এক-দেড় বছর ধরে সরকার পরিচালনার সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের সময়েই যদি আজ দেশের এই অবস্থা হয়, তাহলে তাদের বড় বড় কথায় মানুষ আর বিশ্বাস করবে কেন?”
তারেক রহমান বলেন, “আজ এটা প্রমাণিত—বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে হলে, দুর্নীতির লাগাম টানতে হলে একমাত্র ধানের শীষই পারে।”
নারীদের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী। নারীদের উন্নয়নযাত্রায় সম্পৃক্ত না করলে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণেই বিএনপি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে খেটে খাওয়া পরিবারের গৃহিণীরা মাসিক আর্থিক সহায়তা পাবেন, যাতে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হতে পারে।”
কৃষকদের প্রসঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “কৃষক ভালো থাকলে দেশ ভালো থাকবে। অতীতে বিএনপি সরকার কৃষকদের জন্য সুদ ও খাজনা মওকুফ করেছিল। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।”
তরুণ সমাজের কর্মসংস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে আইসিটি ও ভোকেশনাল টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউশন গড়ে তোলা হবে, যাতে সবাই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।”
উন্নয়নের নামে লুটপাটের অভিযোগ তুলে তারেক রহমান বলেন, “বড় বড় প্রকল্পের নামে জনগণের করের টাকা লুট করা হয়েছে। অথচ সাধারণ মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তা উপেক্ষিত থেকেছে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে জনগণের বাস্তব প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হবে।”
ঢাকা-৮ আসনের ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এলাকার সমস্যা সমাধানে এলাকার মানুষকেই বেছে নিতে হবে। বাইরের কেউ ঘরের মানুষের কষ্ট বোঝে না।”
জনসভায় মির্জা আব্বাসের হাতে ধানের শীষ তুলে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “মির্জা আব্বাস এই এলাকারই মানুষ। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত তাকে দেখুন, তার পাশে থাকুন। এরপর থেকে তিনি আজীবন আপনাদের পাশে থাকবেন।”
বক্তব্যের শেষদিকে তারেক রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, “আমি আমার পরিকল্পনার কথা বললাম, এবার আপনারা বলেন—১২ তারিখে আপনাদের পরিকল্পনা কী?”
জবাবে জনতা একযোগে স্লোগান দেয়—
“১২ তারিখ সারাদিন, ধানের শীষে ভোট দিন।
১২ তারিখ সারাদিন, ভোটকেন্দ্র পাহারা দিন।”