এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র বৈধ ভিত্তি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, বন্দুকের নল কিংবা অবৈধ ক্ষমতা নয়—জনগণের ভোটই রাষ্ট্রক্ষমতার একমাত্র গ্রহণযোগ্য উৎস।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) আসনের গৌরীপুর মুন্সি ফজলুল রহমান সরকারি ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই জনসভা কার্যত রূপ নেয় ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের এক গণতান্ত্রিক উচ্চারণে।
ড. মোশাররফ হোসেন বলেন,
“বিএনপি জনগণের দল—জনগণকে সঙ্গে নিয়েই আমাদের রাজনীতি। অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়েই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে দেশে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পরিকল্পিতভাবে সংকুচিত করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের একমাত্র পথ হলো জনগণের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ। বিএনপি শুধু সেই দাবি তুলেই থেমে নেই, বরং জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।
জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম কেবল রাজপথে সীমাবদ্ধ নয়—আইন, রাজপথ ও জনসমর্থন—এই তিন ক্ষেত্রেই বিএনপি সমানভাবে সক্রিয় রয়েছে।
দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ভিপি জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম সরকার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ সেলিম সরকার, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন আহমেদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম ভূঁইয়া, কৃষক দলের আহ্বায়ক আহম্মেদ হোসেন তালুকদার, পৌর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সওগাত চৌধুরী পিটারসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে জনসভাস্থল পরিণত হয় এক শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সমাবেশে। বক্তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান—যা আসন্ন নির্বাচনের আগে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও স্পষ্টভাবে সামনে নিয়ে আসে।