নিজস্ব প্রতিবেদক : কুমিল্লা–০১ (দাউদকান্দি–মেঘনা) আসনে নির্বাচনী প্রচারণার ১২তম দিনে বিএনপির পক্ষে যে জনস্রোত দেখা গেছে, তা কেবল একটি প্রচার কর্মসূচি নয়—বরং দীর্ঘদিনের বঞ্চনা, উন্নয়নহীনতা ও ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে জনতার সুস্পষ্ট রাজনৈতিক উচ্চারণ। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দুলপুর ইউনিয়নে দিনভর গণসংযোগ ও একাধিক পথসভায় ধানের শীষের পক্ষে সৃষ্টি হয় ব্যাপক গণজোয়ার।
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দলীয় মনোনীত প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পক্ষে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নারী-পুরুষ, তরুণ-প্রবীণসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ পুরো ইউনিয়নকে পরিণত করে জনতার উৎসবমুখর সমাবেশে।
‘ভোট দিবো কিসে? 🌾 ধানের শীষে’—এই স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে সুন্দুলপুরের সড়ক, বাজার ও গ্রামপথ।
স্থানীয় ভোটারদের উপস্থিতি ও উচ্ছ্বাসে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ১৬ বছরের ক্ষোভ ও প্রত্যাশা—উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আকাঙ্ক্ষা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জনসমাগম কেবল দলীয় শক্তির প্রদর্শন নয়, বরং পরিবর্তনের পক্ষে জনমতের দিকনির্দেশনা।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। তিনি বলেন,
“দেশ ও জনগণের স্বার্থে বিএনপিই আজ একমাত্র বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি। দাউদকান্দি–মেঘনার মানুষ উন্নয়ন, গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের প্রতীকে ভোট দিতে ঐক্যবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, জুলাইয়ের গণউত্থানে সিবপুর গ্রামের শহীদ রিফাত হোসেনের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে এবং তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে তিনি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর সমালোচনা করে বলেন,
“ভোটের সঙ্গে জান্নাতের ফতোয়া জুড়ে দেওয়া রাজনৈতিক অপব্যবহার ছাড়া কিছু নয়। মানুষ এখন সচেতন—তারা উন্নয়ন ও অধিকার বুঝে নিতে জানে।”
তিনি দাউদকান্দিবাসীর উদ্দেশে বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করলে এই আসন বিএনপির রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব পাবে—যা এলাকার উন্নয়ন ও মর্যাদা নিশ্চিত করবে।
গণসংযোগ ও পথসভায় উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এম এ লতিফ ভূঁইয়া, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন আহমেদ, আহ্বায়ক সদস্য সালাউদ্দিন ভূঁইয়া, সুন্দুলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তসলিম আহমেদ, দাউদকান্দি উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব রোমান খন্দকার, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ, বিএনপি নেতা রোকনুজ্জামান, মাসুদ ভূঁইয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী।
নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, দাউদকান্দির প্রতিটি জনপদে ধানের শীষের পক্ষে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে, তা আগামী নির্বাচনে বিজয়ের দিকেই এগিয়ে নিচ্ছে বিএনপিকে। সুন্দুলপুরের জনস্রোত স্পষ্ট করে দিয়েছে—এই আসনে গণরায় ধানের শীষের পক্ষেই গড়ে উঠছে।