নিজস্ব প্রতিবেদক : জুলাই গণআন্দোলনের পর দেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটলেও শহীদদের পরিবার যে এখনও ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক জীবনের নিশ্চয়তা থেকে বঞ্চিত—তারই একটি বাস্তব ও বেদনাদায়ক চিত্র উঠে এসেছে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ)-এর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান (স্নিগ্ধ)-এর বক্তব্যে।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক আবেগঘন ও তীব্র ভাষার পোস্টে মীর স্নিগ্ধ দাবি করেন, জুলাই আন্দোলনের পর তার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং আর্থিক অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ হয়েছে। সমাজে প্রচলিত গুজব ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, “অনেকে বলে আমি কোটি কোটি টাকার মালিক। যদি কেউ সেই কোটি টাকা দেখাতে পারে, আমি নিজে ফাঁসির দড়িতে ঝুলে যাব।”
তিনি জানান, জুলাইয়ের আগে ফ্রিল্যান্সিং থেকে মাসে লাখ টাকা আয় হতো, যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ। এর ফলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে যেমন আর্থিক সংকটে পড়েছেন, তেমনি একজন শহীদ পরিবারের সদস্য হিসেবে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবহেলার বাস্তবতা প্রতিনিয়ত অনুভব করছেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ অংশটি আসে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রসঙ্গে। মীর স্নিগ্ধ স্পষ্ট ভাষায় প্রশ্ন তোলেন—“জুলাইয়ের শহীদ মানুষ হত্যার বিচার কি সত্যিই হয়েছে?” সরকারপক্ষের প্রচলিত দাবির বিপরীতে তিনি বলেন, প্রকৃত বিচার এখনও হয়নি।
তার ভাষায়, আদালত থেকে যে তিনজনের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে দু’জন দেশের বাইরে অবস্থান করায় রায় কার্যকর করা সম্ভব নয়। অপরজন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন, যাকে রাজসাক্ষী বানিয়ে গণহত্যার মতো গুরুতর অভিযোগ সত্ত্বেও মাত্র পাঁচ বছরের নামমাত্র সাজা দেওয়া হয়েছে—যা ন্যায়বিচারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
একজন শহীদ ভাইয়ের কণ্ঠে উচ্চারিত এই বক্তব্য শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভ নয়, বরং তা জুলাই গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া, রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে। ক্ষমতার পরিবর্তন হলেও যদি বিচার অসম্পূর্ণ থাকে, শহীদদের আত্মত্যাগ যদি কেবল রাজনৈতিক স্লোগানে সীমাবদ্ধ হয়—তবে ইতিহাস আবারও রাষ্ট্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।
মীর স্নিগ্ধের শেষ কথাটি তাই কেবল আবেগ নয়, এক ধরনের নৈতিক উচ্চারণ—“মানুষ যা ভাবার ভাবুক, মরার পর আমি যদি মুগ্ধর সামনে গিয়ে বুক ফুলিয়ে দাঁড়াতে পারি, তাহলেই এই জীবন সার্থক।”
এই উচ্চারণের ভার বহন করার দায়িত্ব আজ রাষ্ট্র ও রাজনীতির কাঁধেই।