এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : রাজধানীর কাকরাইল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে রোববার বিকাল তিনটায় গণতন্ত্রের মা, আপোষহীন নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঢাকাস্থ দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে শোক, শ্রদ্ধা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকারের আবহে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার ড. খন্দকার মারুফ হোসেন। প্রধান বক্তা ছিলেন ঢাকাস্থ দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের সভাপতি মিঞা মো. মিজানুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জসিম উদ্দিন আহমেদ—সাধারণ সম্পাদক, ঢাকাস্থ দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরাম ও সাধারণ সম্পাদক, ঢাকা দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরাম; এম এ লতিফ ভূঁইয়া—আহ্বায়ক, দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপি; নূর মোহাম্মদ সরকার—আহ্বায়ক, দাউদকান্দি উপজেলা পৌর বিএনপি; এবং দাউদকান্দি পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শওগাত চৌধুরী পিটার। এছাড়া সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ দাউদকান্দি উপজেলা জাতীয়তাবাদী যুব ফোরামের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন আনন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ভূঁইয়া এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডিএম সাদ্দাম হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্যারিস্টার ড. খন্দকার মারুফ হোসেন বলেন, “বেগম খালেদা জিয়া কেবল একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী নন; তিনি গণতন্ত্র, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের ভোটাধিকার রক্ষার এক অবিচল প্রতীক। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব আজও দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে প্রেরণার বাতিঘর হয়ে রয়েছে।” তিনি গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে তরুণ সমাজের অগ্রণী ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, “বিভিন্ন সময় দেশ ত্যাগের চাপ ও সুযোগ এলেও বেগম খালেদা জিয়া স্পষ্ট ভাষায় বলেছিলেন—‘আমি দেশ ছাড়বো না, এই দেশই আমার ঠিকানা।’ তিনি কথা রেখেছেন। গণতন্ত্রের এই আপোষহীন মা নিজের দেশেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন।”
প্রধান বক্তার বক্তব্যে মিঞা মো. মিজানুর রহমান বলেন, “বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন প্রমাণ করে—ক্ষমতার মোহ নয়, জনগণের অধিকার রক্ষাই একজন প্রকৃত নেতার পরিচয়।” তিনি বলেন, আজকের দোয়া মাহফিল শুধু শোকের আয়োজন নয়, এটি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নতুন করে শপথ নেওয়ার মুহূর্ত। দেশনায়িকার আদর্শ ধারণ করে যুবসমাজকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
বক্তারা বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, কারাবরণ ও শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও বেগম খালেদা জিয়া গণতন্ত্র ও জনগণের প্রশ্নে কখনো আপস করেননি। তাঁর সংগ্রামী জীবনের শিক্ষা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
অনুষ্ঠান শেষে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা, দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।