কুমিল্লা–৪: মনোনয়ন নয়, এটি ক্ষমতার পুনর্বিন্যাস
এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : কিরে হাসনাত—এখন আর প্রশ্ন “কি করবি” না, প্রশ্ন হলো কতটা টিকতে পারবি।
রাজনীতির এই খেলায় আবেগের কোনো দাম নেই, আছে কেবল মাঠ, নিয়ন্ত্রণ আর টাইমিং। ট্রাম কার্ড যে এখন মঞ্জুর মুন্সির হাতেই—এটা আর অনুমান নয়, দৃশ্যমান বাস্তবতা।
হাসনাত শিবির যে মুহূর্তের জন্য উল্লাসে ভেসেছিল, সেটি ছিল ভুল পাঠের ফল। তারা ভেবেছিল একজন খেলোয়াড় ছিটকে গেলেই খেলা শেষ। কিন্তু বাংলাদেশি রাজনীতি এমন নয়—এখানে খেলোয়াড় বদলায়, খেলা বদলায় না। মঞ্জুর মুন্সির মনোনয়ন বাতিল মানেই তাঁর রাজনীতির অবসান—এই ধারণাই ছিল সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ভুল।
কুমিল্লা–৪ আসনে যে ঘটনাপ্রবাহ চলছে, তা স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—
মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, প্রভাব নয়।
স্ত্রী মাজেদা মুন্সির মনোনয়ন বৈধ হওয়া মানে খেলাটা নতুন মোড় নিয়েছে। তিনি নতুন মুখ নন, রাজনীতির মাঠে পরীক্ষিত। ২০০৮ সালের অভিজ্ঞতা তাঁকে কাগুজে প্রার্থী নয়, কার্যকর বিকল্পে পরিণত করেছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো—
স্বতন্ত্র মানেই বিচ্ছিন্ন নয়।
মাঠের ভাষায় মাজেদা মুন্সি মানেই ধানের শীষের প্রাকৃতিক ধারাবাহিকতা। আর মঞ্জুর মুন্সি নিজে মাঠে থেকে স্ত্রীর পক্ষে নামা মানে, এই আসনে পুরনো নেটওয়ার্ক, সংগঠন আর প্রভাব আবার সক্রিয়।
হাসনাত শিবির এখন চাপে। কারণ তারা লড়ছে একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে নয়, লড়ছে একটি স্থাপিত রাজনৈতিক বলয়ের বিরুদ্ধে। এই বলয় জানে কোথায় চাপ দিতে হয়, কখন নীরব থাকতে হয়, আর কখন হঠাৎ আঘাত করতে হয়।
এখন রাজনীতি আর স্লোগানে নেই—
এটা নেমে এসেছে বুথ, সংগঠন, কেন্দ্র আর হিসাবের খেলায়।
যেখানে অভিজ্ঞতা কাঁচা আত্মবিশ্বাসকে গিলে খায়।
পরিষ্কার কথা—
এই লড়াই আর একতরফা নয়।
কুমিল্লা–৪ এখন হটস্পট। এখানে ফল নির্ধারিত হবে শেষ মুহূর্তের কৌশলে, মাঠের নিয়ন্ত্রণে আর ভোটার ব্যবস্থাপনায়।
খেলা জমে উঠেছে,
লেভেল বদলে গেছে,
আর রাজনীতি আবার প্রমাণ করছে—শেষ হাসি কে হাসবে, সেটা শুরুতে বোঝা যায় না।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। 🇧🇩🌾