নিজস্ব প্রতিবেদক : গণতন্ত্র, রাজনীতি ও গণমাধ্যম—এই তিন শক্তির পারস্পরিক সম্পর্ক নতুন করে দৃশ্যমান হলো শনিবার রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গণমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক, সাংবাদিক ও মিডিয়া নির্বাহীদের সঙ্গে সরাসরি শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে রাজনৈতিক যোগাযোগের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে শুরু হওয়া এই আয়োজনে দেশের প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েই তারেক রহমান দেশের প্রথম সারির সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তাঁর পাশে ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এই শুভেচ্ছা বিনিময় ছিল শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় সৃষ্ট এক গভীর দূরত্ব ঘোচানোর প্রতীকী উদ্যোগ। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট ভাষায় বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে নানা রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাস্তবতার কারণে দলের প্রধান তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের সরাসরি সাক্ষাৎ বা মতবিনিময়ের সুযোগ হয়নি। সেই শূন্যতা পূরণ করতেই বিএনপি এই আয়োজন করেছে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দেড় যুগ যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর গত ২৫ ডিসেম্বর সপরিবারে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। দেশে ফেরার মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ৩০ ডিসেম্বর তিনি হারান তাঁর মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে—যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনকে শোকাবহ করে তোলে।
এরপর শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। দায়িত্ব গ্রহণের পরদিনই দেশের গণমাধ্যমের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়—এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়, বিএনপি তাদের রাজনৈতিক পথচলায় গণমাধ্যমকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবেই দেখতে চায়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়োজন বিএনপির নেতৃত্বে নতুন বার্তা বহন করছে—যেখানে সংলাপ, যোগাযোগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দিয়ে গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রত্যয় ফুটে উঠেছে।