বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তারেক রহমান। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিএনপির চেয়ারপারসন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপোষহীন গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুজনিত কারণে দলটির সর্বোচ্চ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এই শূন্যতা শুধু একটি সাংগঠনিক শূন্যতা নয়, বরং দেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক গভীর বেদনার অধ্যায়। তবে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসারে সেই শূন্যতা পূরণে দায়িত্বশীল ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় এগিয়ে আসে বিএনপি।
গঠনতন্ত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয় স্থায়ী কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে দলের শূন্য চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এর মধ্য দিয়ে তিনি গঠনতান্ত্রিকভাবে বিএনপির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগে দীর্ঘদিন ধরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দলের হাল ধরলেও, এবার আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্ব নতুন মাত্রা পেল। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত বিএনপির সাংগঠনিক ঐক্য ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে।
তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিনা রহমান এবং মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে কেবল নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের ভবিষ্যৎ রূপরেখা এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার বহন করে তারেক রহমানের সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ—দলকে আরও সুসংগঠিত করা, রাজপথের আন্দোলন জোরদার করা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের লড়াইকে চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যাওয়া।
রাজনীতির মাঠে নতুন অধ্যায়ের এই সূচনায় বিএনপির নেতৃত্ব কাঠামো স্পষ্ট হলো, আর জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হলো নতুন হিসাব-নিকাশ।