এস এমন শাহ্ জালাল সাইফুল : স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে কিছু নাম কেবল ব্যক্তিত্ব নয়, হয়ে ওঠে একটি সময়, একটি আদর্শ, একটি সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তেমনই এক নাম। তাঁর শাহাদাতের পর যে জানাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল, ইতিহাসে তা আজও সর্ববৃহৎ জানাজার একটি হিসেবে স্মরণীয়। সেই জানাজা ছিল কেবল একজন রাষ্ট্রনায়কের বিদায় নয়, ছিল স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয়তাবাদের প্রতি মানুষের গভীর ভালোবাসার প্রকাশ।
আর সেই মানুষটির সহধর্মিণী—আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। যিনি জীবনভর রাজনীতির কঠিন পথ বেছে নিয়েছেন দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে। স্বামীর রেখে যাওয়া আদর্শকে বুকে ধারণ করে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন দৃঢ়তা ও সাহসের সঙ্গে।
শহীদ জিয়ার পছন্দের উক্তি ছিল—
“প্রথম বাংলাদেশ, আমার শেষ বাংলাদেশ।”
এই দর্শন ছিল তাঁর রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত জীবনের মূলমন্ত্র।
আজ সময়ের প্রবাহে দাঁড়িয়ে বেগম খালেদা জিয়া যেন নিঃশব্দে প্রমাণ করে দিলেন—
“জীবন বাংলাদেশ আমার, মরণ বাংলাদেশ।”
দীর্ঘ অসুস্থতা, কারাবন্দিত্ব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা—সবকিছুর মাঝেও তিনি আপস করেননি। ব্যক্তিগত স্বস্তির চেয়ে দেশের স্বার্থকেই তিনি বরাবর অগ্রাধিকার দিয়েছেন। রাজনীতির মসৃণ পথ নয়, বরং ত্যাগের পথেই তিনি হেঁটেছেন দৃঢ় পায়ে।
বেগম খালেদা জিয়ার জীবন কেবল একজন রাজনীতিকের জীবন নয়; এটি একজন নারীর সাহস, একজন নেত্রীর দৃঢ়তা এবং একজন দেশপ্রেমিকের নির্ভীক অবস্থানের গল্প। শহীদ জিয়ার পর যিনি জাতীয়তাবাদী চেতনার পতাকা হাতে তুলে নিয়েছিলেন, তিনি তা কখনো মাটিতে পড়তে দেননি।
আজ যখন বাংলাদেশের রাজনীতি নানা প্রশ্ন ও সংকটে আবর্তিত, তখন শহীদ জিয়া ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জীবনদর্শন নতুন করে ভাবতে শেখায়—দেশই আগে, ব্যক্তি পরে। ক্ষমতা নয়, আদর্শই মুখ্য।
আমাদের বেগম জিয়া—
শহীদ জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী,
আপোষহীন দেশনেত্রী,
এবং জীবন-মৃত্যুতে বাংলাদেশকে বেছে নেওয়া এক অনন্য রাজনৈতিক প্রতীক। 🇧🇩