বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে রাজনীতির মাঠে নাটকীয় মোড় নিয়েছে। ঋণ খেলাপির দায়ে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর প্রার্থীতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্টের চেম্বার আদালত। এর ফলে তিনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) হাইকোর্টের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হকের আদালত এ আদেশ দেন। মামলায় প্রিমিয়ার ব্যাংকের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার বিভূতি তরফদার। আদালত মনে করেন, ঋণ খেলাপি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর অংশগ্রহণ নির্বাচন আইন অনুযায়ী গ্রহণযোগ্য নয়।
উল্লেখ্য, এর আগে বিচারপতি এ কে এম রবিউল হাসানের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর নাম ঋণ খেলাপির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে তার প্রার্থীতা স্থগিত করেন। পরবর্তীতে ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে প্রিমিয়ার ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সর্বশেষ চেম্বার আদালতের আদেশে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হলো—আইনি বাধার কারণে বিএনপির এই প্রার্থী নির্বাচনী দৌড় থেকে ছিটকে পড়ছেন।
এই পরিস্থিতিতে কুমিল্লা-৪ আসনের নির্বাচনী সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে যাচ্ছে। বর্তমানে এই আসনে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন। বিএনপির প্রার্থীতা বাতিল হওয়ায় বিরোধী জোটের ভোট ও সমর্থনের গন্তব্য কোথায় যাবে—তা নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে।
সম্পাদকীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ঋণ খেলাপি ইস্যুতে আদালতের এই অবস্থান নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন ও নৈতিকতার প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনেছে। রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক না কেন, আর্থিক দায়বদ্ধতা ও আইনগত যোগ্যতা পূরণ না হলে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না—এই বার্তাই আদালতের আদেশে প্রতিফলিত হয়েছে।
একই সঙ্গে এটি রাজনৈতিক দলগুলোর জন্যও একটি সতর্ক সংকেত। প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ও আইনি প্রস্তুতির ঘাটতি থাকলে শেষ মুহূর্তে পুরো নির্বাচনী কৌশল ভেস্তে যেতে পারে। কুমিল্লা-৪ আসনের ঘটনাপ্রবাহ সেই বাস্তবতাকেই আবারও সামনে এনে দিল।