এস এম শাহ্ জালাল সাইফুল : যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নামে একটি সড়কের নামকরণ— “খালেদা জিয়া স্ট্রিট”— নিঃসন্দেহে প্রবাসে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের জন্য একটি তাৎপর্যপূর্ণ ও প্রতীকী ঘটনা। এটি কেবল একটি রাস্তার নামফলক স্থাপন নয়; বরং আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্বীকৃতি।
বিশ্ব রাজনীতিতে খুব কম দেশই এমন সৌভাগ্য অর্জন করে, যাদের জাতীয় নেতাদের নাম বিদেশের মাটিতে স্থায়ীভাবে স্মরণীয় করে রাখা হয়। সেই বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী রাষ্ট্রের একটি শহরে বেগম খালেদা জিয়ার নামে সড়ক নামকরণ প্রবাসী বাংলাদেশিদের সামাজিক-রাজনৈতিক অবস্থান ও পরিচয়ের দৃশ্যমান বহিঃপ্রকাশ। এটি প্রমাণ করে, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের মাঝেও বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও নেতৃত্বের উত্তরাধিকার গুরুত্বের সঙ্গে বহমান।
বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের এক অবিচ্ছেদ্য নাম। সামরিক শাসনবিরোধী সংগ্রাম থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা— প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে তাঁর ভূমিকা ইতিহাসে লিপিবদ্ধ। দেশের ভেতরে রাজনৈতিক বিতর্ক ও মতপার্থক্য থাকলেও, আন্তর্জাতিক পরিসরে তাঁর নেতৃত্ব ও অবদান যে উপেক্ষণীয় নয়, মিশিগানের এই নামকরণ তারই প্রমাণ।
এই উদ্যোগ প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির ঐক্য ও সংগঠিত প্রচেষ্টারও প্রতিফলন। দীর্ঘদিন ধরে তারা শুধু অর্থনৈতিক নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবেও নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে তুলছেন। ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ সেই ধারাবাহিকতার একটি স্মারক, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কমিউনিটির পরিচয় বহন করবে।
একই সঙ্গে এই ঘটনা দেশের ভেতরেও একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়— জাতীয় নেতাদের মূল্যায়ন কেবল তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক বাস্তবতার নিরিখে নয়, বরং ইতিহাসের দীর্ঘ পরিসরে করা হয়। সময়ের ব্যবধানে বিতর্ক স্তিমিত হয়, কিন্তু অবদান থেকে যায়। বিদেশের মাটিতে একটি সড়কের নামফলকে সেই অবদান স্থায়ীভাবে খোদাই হয়ে থাকা তারই দৃষ্টান্ত।
সব মিলিয়ে, মিশিগানে ‘খালেদা জিয়া স্ট্রিট’ নামকরণ বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে একটি গৌরবজনক সংযোজন। এটি শুধু একজন নেত্রীর প্রতি সম্মান নয়, বরং প্রবাসে বাংলাদেশের পরিচয়, মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক উত্তরাধিকারের এক স্থায়ী স্বীকৃতি।