বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পুনর্গঠনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কার্যকর ও বিস্তৃত সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, এই সহযোগিতা যেন সরাসরি দেশের জনগণের কল্যাণে কাজে আসে। এ সময় ইইউ প্রতিনিধিদলও বাংলাদেশের পাশে আরও বড় পরিসরে সহযোগিতা নিয়ে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের উন্নয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইইউ বড় সংখ্যক নির্বাচন পর্যবেক্ষক পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নির্বাচন, গণতন্ত্র, রাজনৈতিক পরিবেশ এবং নির্বাচন-পরবর্তী উন্নয়ন পরিকল্পনা—এসব বিষয় নিয়েই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে তারেক রহমানের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমাদের আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানতে চেয়েছে—এই নির্বাচন কেমন হতে যাচ্ছে, বিএনপির ভূমিকা কী হবে এবং নির্বাচন শেষে দেশের উন্নয়ন নিয়ে আমাদের সুস্পষ্ট ভাবনা কী।”
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, এ বিষয়ে তারেক রহমান অত্যন্ত দৃঢ় ও স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন। তিনি ইইউ প্রতিনিধিদলকে জানিয়েছেন—দ্রুত ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের দাবি সর্বপ্রথম বিএনপিই তুলেছিল। বিএনপি এখনো চায়, জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করে দ্রুত নির্বাচন সম্পন্ন হোক।
তিনি বলেন, “আমরা তাদেরকে পরিষ্কারভাবে জানিয়েছি—নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সব ধরনের রাজনৈতিক প্রস্তুতি সম্পন্ন। এখন প্রয়োজন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আরও কার্যকর ও দৃশ্যমান ভূমিকা।”
বৈঠকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব হুমায়ুন কবির এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
বিএনপি নেতারা বলেন, গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও জনগণের উন্নয়ন প্রশ্নে কোনো আপস নয়—এই নীতিতেই বিএনপি আগামী দিনে এগোবে, আর সে পথেই আন্তর্জাতিক অংশীদারদের দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে দলটি।