1. bdweb24@gmail.com : admin :
  2. nemadmin@bongonewsbd24.com : :
  3. him@bdsoftinc.info : Staff Reporter : Staff Reporter
  4. info@wp-security.org : Security_64733 :
বুধবার, ০৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনামঃ
নির্বাচন-পরবর্তী উন্নয়নে ইইউর সক্রিয় সহায়তা চাইল বিএনপি গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে দৃঢ় অবস্থানের কথা জানালেন তারেক রহমান ৬ দফা দাবী নিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা মিছিল করে, রাজ্যপাল এবং কেন্দ্রীয় ও রাজ্য শ্রম দপ্তরে ডেপুটেশন দিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে বীরগঞ্জে বিএনপির দোয়া মাহফিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ঢাকা-১৭ আসনের নেতাদের সঙ্গে তারেক রহমানের কঠোর দিকনির্দেশনা নিসচার সড়ক যোদ্ধা জাতীয় পুরুষ্কার ফেল দাগনভূঞার সাংবাদিক সোহেল ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার নির্দেশ পল্লবী যুবলীগ সভাপতির—ডিবি সওজে ‘কাদের চক্র’ সক্রিয়, নেপথ্যে এ.কে.এম আজাদ রহমান–মঈনুল–নুরু ইসলাম ত্রয়ী এনআইডির বাধ্যতামূলক নিবন্ধন জোরদার ও বৈধ বাজার ব্যবস্থার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ: এমআইডি পরম মমতার দৃশ্য, রাজনীতির আবেগঘন বার্তা পরম মমতা ও মাতৃস্নেহের এক আবেগঘন মুহূর্তে নির্বাচনের দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান: শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে ব্যস্ত রাজনৈতিক তৎপরতা

দশ দিনে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ: অনিশ্চয়তা থেকে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস

রিপোর্টার
  • আপডেট : রবিবার, ৪ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৫১ বার দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : ইতিহাস সাধারণত বিপ্লব মনে রাখে রক্তপাত ও নাটকীয়তার জন্য। মার্কিন সাংবাদিক জন রীড তাঁর ‘দুনিয়া কাঁপানো দশদিন’ গ্রন্থে যেভাবে বলশেভিক বিপ্লবকে তুলে ধরেছেন, বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দশদিন সেই অর্থে বিশ্ব কাঁপায়নি। কিন্তু এই দশদিন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে আমূল পুনর্গঠন করেছে।
২৫ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি—এই সময়টুকু ছিল প্রত্যাবর্তন ও বিদায়, শোক ও আশাবাদ, অস্থিরতা ও পুনর্বিন্যাসের যুগলবন্দী। নীরবে, কিন্তু গভীরভাবে বদলে গেছে দেশের রাজনৈতিক ভারসাম্য।
একটি প্রত্যাবর্তন, যা সমীকরণ বদলে দিল
২৫ ডিসেম্বর ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ছিল নিছক ব্যক্তিগত ঘটনা নয়। এটি ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির জ্যামিতিতে একটি নির্ণায়ক পরিবর্তন।
তখন বাংলাদেশ ছিল গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে। জাতীয় নির্বাচন নিয়ে স্পষ্টতা ছিল না, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর দেশজুড়ে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি হয়। সরকার চাপের মুখে, রাষ্ট্রযন্ত্র ক্লান্ত।
এই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক শূন্যতায় একটি কার্যকর কেন্দ্র তৈরি করে। ভঙ্গুর রাজনৈতিক ব্যবস্থায় নেতৃত্বশূন্যতা সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। তার আগমন সেই শূন্যতা দ্রুত পূরণ করে।
নেতৃত্ব সংকটের অবসান
এর কয়েক সপ্তাহ আগেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তার অসুস্থতা বিরোধী রাজনীতিতে নেতৃত্ব সংকটকে আরও প্রকট করে তোলে।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা সেই সংকটের কার্যকর সমাধান হয়ে ওঠে। প্রথম ভাষণেই তিনি প্রতিশোধ নয়, ঐক্যের কথা বলেন; সংঘাত নয়, ভবিষ্যতের কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ক্লান্ত বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই বার্তা গ্রহণযোগ্য হয়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম দ্রুত বিষয়টি লক্ষ করে। প্রভাবশালী কিছু মাধ্যম তাকে “ভবিষ্যতের প্রধানমন্ত্রী” হিসেবে উল্লেখ করে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে আসে।
শোক, যা জাতিকে এক করল
প্রত্যাবর্তনের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়—৩০ ডিসেম্বর—বাংলাদেশ হারায় তার অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা বেগম খালেদা জিয়াকে। তার মৃত্যু দেশজুড়ে যে শোকের ঢেউ তোলে, তা সাম্প্রতিক ইতিহাসে বিরল।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় নিশ্চিত করে। জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে দেয়—রাজনৈতিক বিভাজন সত্ত্বেও জনগণের আবেগের কেন্দ্রে এখনো একটি শক্তিশালী ঐক্য বিদ্যমান।
এই শোক রাজনৈতিক সৌজন্যেরও পুনর্জন্ম ঘটায়। আদর্শগতভাবে বিপরীত অবস্থানে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা তারেক রহমানের সঙ্গে দেখা করে সমবেদনা জানান। দীর্ঘদিন ধরে অনুপস্থিত থাকা রাজনৈতিক শিষ্টাচারের এই প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
কূটনৈতিক বার্তা ও আঞ্চলিক বাস্তবতা
বেগম জিয়ার মৃত্যুতে ৩২টি দেশের কূটনীতিকদের উপস্থিতি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শংকরের ঢাকায় ঝটিকা সফর।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত সংবেদনশীল পর্যায়ে। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর কূটনৈতিক উত্তেজনা বাড়ে, রাষ্ট্রদূত তলবের ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে জয়শংকরের সফর ছিল একটি স্পষ্ট বার্তা—নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে দিল্লি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।
তারেক রহমান এই শোকাবহ সময়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে যেভাবে সংযত ও পরিমিত ভাষায় যোগাযোগ করেছেন, তা ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি ইঙ্গিত বহন করে।
২৫ ডিসেম্বরের আগে ও পরে—দুটি বাংলাদেশ
২৫ ডিসেম্বরের আগে বাংলাদেশ ছিল বিভক্ত, উদ্বিগ্ন ও অনিশ্চিত।
৪ জানুয়ারির পর বাংলাদেশ তুলনামূলকভাবে সংহত, আশাবাদী ও দিকনির্দেশনাসম্পন্ন।
এটি কোনো বিপ্লব নয়—এটি একটি নীরব রাজনৈতিক রূপান্তর।
নতুন অধ্যায়ের সূচনা?
এই দশদিন দেখিয়ে দিয়েছে, রাজনৈতিক পরিবর্তন সব সময় রাজপথের সংঘর্ষে আসে না। কখনো কখনো তা আসে সময়ের সমন্বয়ে, নেতৃত্বের প্রত্যাবর্তনে এবং ইতিহাসের বিদায়লগ্নে।
এই ঐক্য কতদিন স্থায়ী হবে—সে প্রশ্ন এখনো খোলা।
তবে এটুকু স্পষ্ট: ২৫ ডিসেম্বরের আগের বাংলাদেশ আর বর্তমান বাংলাদেশের মধ্যে পার্থক্য সুস্পষ্ট।
একটি নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে—নীরবে, কিন্তু গভীরভাবে।

Please Share This Post in Your Social Media

এই বিভাগের আরো সংবাদ

© ২০২৩ bongonewsbd24.com