বঙ্গ নিউজ বিডি প্রতিবেদক : জাতীয় রাজনীতিতে পদ-পদবি, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কিংবা পারিবারিক পরিচয় কাউকে কখনোই প্রকৃত জাতীয় নেতা বা নেত্রী বানাতে পারেনি—এটা ইতিহাসের অকাট্য সত্য। একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের লাখো নেতাকর্মী ও দেশের কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ছাড়া নেতৃত্ব কেবল কাগুজে থাকে, বাস্তবে নয়। সেই নেতৃত্ব টেকে না, গণমানুষের নেতা হয়ে ওঠে না।
নেতৃত্বের জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক শিক্ষা, মাঠের অভিজ্ঞতা, আত্মত্যাগ এবং জন্মগত রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়। অথচ রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার কেন্দ্রে অবস্থান এবং রাষ্ট্রীয় সব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেও শেখ হাসিনার সন্তান জয় কিংবা পুতুল—কেউই রাজনৈতিক নেতৃত্বের ন্যূনতম গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেননি। জনগণের নেতা হওয়া তো দূরের কথা, আওয়ামী লীগের সাধারণ একজন কর্মীও কখনো তাদের জাতীয় নেতৃত্ব হিসেবে বিশ্বাস করেনি। এই ব্যর্থতা পরিবারতন্ত্রের সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
এর বিপরীতে, জাইমা রহমান জানেন কীভাবে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার জায়গা তৈরি করেছিলেন। একইভাবে তারেক রহমান রাজনীতিতে নেতৃত্ব গড়ে তুলেছেন দীর্ঘ সংগ্রাম, নির্যাতন ও বাস্তব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে। সেই শিক্ষাই অনুসরণ করে জাইমা রহমান শর্টকাট ক্ষমতার রাজনীতিতে নয়, বরং প্রস্তুতি, সংযম ও রাজনৈতিক অনুশীলনের পথেই হাঁটছেন।
যারা ভবিষ্যতে তার যোগ্যতা, শিক্ষা ও অভিজ্ঞতাকে পাশ কাটিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘পরিবারতন্ত্র’ শব্দটি ব্যবহার করে আক্রমণ চালাতে চাইবে, তাদের জন্য আজকের এই সংগ্রাম ও প্রস্তুতির প্রতিটি দৃশ্যই হবে দলিল। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—কৃত্রিম উত্তরাধিকার চাপিয়ে দিলে জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করে, আর প্রকৃত নেতৃত্ব সময়ের পরীক্ষায় টিকে যায়।
রাজনীতি উত্তরাধিকার নয়, রাজনীতি অর্জনের বিষয়।
গণমানুষ যাকে মেনে নেয়, তিনিই নেতা—বাকি সবই ভাঁওতা।