বঙ্গ নিউজ বিডি ডেস্ক রিপোর্ট : জ্বালানি তেল পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে নতুন সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেছেন, মঙ্গলবার রাত ৮টার মধ্যে প্রণালি সব দেশের জাহাজ চলাচলের জন্য খুলে না দিলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি অবস্থান না বদলায়, তাহলে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনী। তার এই হুমকি আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিয়ে জানিয়েছে—হরমুজ প্রণালি আর আগের অবস্থায় ফিরবে না, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য। তারা ইঙ্গিত দিয়েছে, পারস্য উপসাগরে একটি ‘নতুন নিরাপত্তা কাঠামো’ বাস্তবায়নের পথে রয়েছে তেহরান।
এদিকে, ইরানের পার্লামেন্টে একটি খসড়া আইন অনুমোদন করা হয়েছে, যেখানে হরমুজ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ট্রানজিট ফি আরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রুট দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরল গ্যাস পরিবহন হয়। ফলে চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিস্থিতি দ্রুত সমাধান না হলে এটি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যার প্রভাব পড়বে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে।